চাকরি

স্বপ্নের খোঁজে মালয়েশিয়ায়, দুঃস্বপ্নের বেড়াজালে প্রায় তিনশত যুবক

  প্রতিনিধি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১১:০০:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরপুর গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের যুবক তুহিন আলী। বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান তিনি। দেশে একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তুহিনের আয়ের ওপরই চলতো তার পরিবার।

সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্থানীয় দালাল রাজুকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ২ মাস আগে মালয়েশিয়া যান তুহিন। সাহেবনগর গ্রামের জাহিদের ছেলে আদম পাচারকারির দালাল রাজু তুহিনকে ভালো বেতনে কোম্পানিতে কাজ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান মালেশিয়ায়।
 
তুহিন জানান, মালয়েশিয়া আসার পর কয়েকজন লোক তাকে নিয়ে যায় রাজধানীর কুয়ালালামপুরের সালাক সালাতান নামের একটি ক্যাম্পে। সেখানে আমার মতো তিন শতাধিক যুবক বন্দি রয়েছে। আমাকে ওই ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য যুবকরা জানান, তারা ৫/৬ মাস আগে এখানে এসেছি। আমাদেরও এই ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছে।  তাদের মধ্যে অনেকেই এসব দালালের মাধ্যমে সহায় সম্বল বিক্রি করে চার মাস আগে মালয়েশিয়া গিয়েও আটকা পড়ে আছেন ওই ক্যাম্পে। তাদের বন্দি থাকা কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

তারা ভিডিও বার্তায় বলেন, আমরা বেশ কয়েক মাস যাবৎ এই ক্যাম্পে আটকা আছি। শুধু তুহিন নয়, এই ক্যাম্পে আটকা আছে। গাংনী উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের আজমত আলীর ছেলে লাঁলচাদ ইসলাম। তিনি সাহেবনগর গ্রামের আদম পাচারকারি সুরজ আলীর মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ৩ মাস আগে গেছেন মালয়েশিয়াতে। কাজিপুর গ্রামের গোলাম বাজার এলাকার বজলুর ছেলে মাজেদ মাস্টারের হাতে ৫ লাখ টাকা দিয়ে  মালয়েশিয়া যান কাজিপুর গ্রামের কাদের হেলালের ছেলে আনারুল ইসলাম। তিনি জানান, মাজেদ মাস্টারের হাত ধরে এলাকার ৩ শতাধিক যুবক মালয়েশিয়া এসেছেন। সবার ভাগ্যে জুটেছে একই অবস্থা।