অপরাধ

ডেমরায় প্রধান সড়কে যৌথ অভিযান শুরু:আতঙ্কে অপরাধীরা

  প্রতিনিধি ৯ মার্চ ২০২৫ , ৪:৩৭:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

মোঃ মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, ডেমরা,ঢাকা:

অবৈধ অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে  রাজধানীর ডেমরায় প্রধান সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে এ কার্যক্রমের মধ্যে রাজধানীর প্রবেশদ্বার ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক সহ অভ্যন্তরীণ এলাকায় অব্যাহত রয়েছে রাতের টহল ডিউটিও। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ছিনতাই ও অপরাধ প্রবণ এলাকাগুলোতেও অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। ওই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৮ মার্চ) গভীর রাতেও ডেমরার সুলতানা কামাল সেতুর পূর্ব পার ও কোনাপাড়া এলাকায় সড়কে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন যৌথ বাহিনী। ওই রাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন, সাভার সেনানিবাসের আওতাধীন ১৫ ইস্ট বেঙ্গল(মেকানাইজড) এসব কার্যক্রম চালায়।  কার্যক্রমে সংস্লিষ্ট গাড়ী চালকদেও মেয়াদ উত্তির্ন গাড়ীর কাগজ পত্র চেক করা হয় এবং সন্ধেহভাজন ব্যাক্তিদের তল্লাশী করা হয়। এ সময় প্রায় ৪০ টি গাড়ীর  চালকের বিরুদ্ধে মামলা এবং বিভিন্ন অংকের জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন বিহীন  একটি মোটরসাইকেল ডেমরা থানায় সোপর্দ করা হয়। এ সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে অনেক মোটরসাইকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এদিকে আইন শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়ে সাধারণ মানুষের সাথে মত বিনিময় করেন মেজর আব্দুল মান্নান।

যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা যায়,ডেমরা ঘাট এবং ঢাকা – সিলেট রোডে দূরপাল্লার বাসে নিয়মিত মাদক পরিবহন, অবৈধ অস্ত্র বহন পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি, ডেমরা  এলাকায় ভাসমান জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বেশি হওয়ায় এটি  একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। ইতিপূর্বে ডেমরায় নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চুরি-ছিনতাইসহ নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। তারপর থেকেই পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু অপরাধী গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও দস্যুতা সংগঠন কারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই ডেমরা এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে সন্দেহজনক পরিবহনে নিয়মিত তল্লাশির মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের চালান আটক কিংবা প্রতিরোধ, মাদক প্রতিরোধ, সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই যৌথ বাহিনীর এর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আরো জানা যায়, টহলের মাধ্যমে জনসংযোগ করে মানুষের মাঝে ভয়মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা ও বেসামরিক প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় সংগঠিত ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতির পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে তৎপর রয়েছে সেনাবাহিনী।

সরেজমিন দেখা গেছে, ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর  পূর্ব পাড়ে প্রধান সড়কে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেল থামিয়ে চালানো হয় তল্লাশি। এছাড়াও  ছিনতাই প্রবন বাঁশেরপুল ও কোনাপাড়া এলাকায় একই কার্যক্রম চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট পরবর্তী অনেকটা সময় পুলিশ মাঠে না থাকায় ব্যাহত হয় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। দিনের আলোতেই চলে ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কার্যক্রম। সন্ধ্যা হতেই ধারালো অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীর আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেন এলাকার বাসিন্দারা। একের পর এক চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই এর ঘটনা বেড়েই চলেছে।

যৌথ বাহিনীর সদস্যরা জানান, অপরাধী চক্রের বেশিরভাগই এসব অপরাধ ঘটানোর সময় মোটরসাইকেল আর প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন। এছাড়া, কৌশলে মাদক ও অবৈধ অর্থপাচারেও ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত পরিবহন। চলমান অভিযানে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরতেও বিশেষ নজর রাখছে যৌথবাহিনী।

এদিকে যৌথ বাহির অব্যাহত অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।  জনগণের অভিযোগ অনুযায়ী বিগত দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা, দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থা, ক্রমাগত ধর্ষণ, হত্যা ও ডাকাতি সহ অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধির যৌথ বাহিনীর অভিযানে এসব অপরাধ অনেকটাই কমে আসছে। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে যৌথবাহিনী।

এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর মেজর আব্দুল মান্নান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের পাশাপাশি সকল নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের এ ধারাবাহিক চেকপোষ্ট কার্যক্রম।

যৌথ অভিযানের বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মোঃ মাহমুদুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের জানমালের হেফাজতের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৫ মার্চ রাত থেকে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে পুলিশের যে দুর্বল অবস্থান ছিল তা এখন কেটে উঠেছে। ডেমরাতে এমনিতেই অপরাধ কিছুটা কম, তারপরও যতটুকু আছে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিরোধসহ নির্মূল করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content