| সংবাদ শিরোনাম: |
চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ক্ষমতায় আসার পর মাত্র দেড় মাসেই প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সর্বশেষ তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ) ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা।
ফলে অর্থবছরের মাত্র ৯ মাসেই ঋণ গ্রহণ পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৪ মাসে ব্যাংক ঋণ বেড়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা এই প্রবণতাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই স্থবির অর্থনীতি।
বিনিয়োগের অভাবে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। ফলে, গতি হারিয়েছে সার্বিক কর্মকাণ্ড।
অন্যদিকে, চড়া মূল্যস্ফীতির প্রভাবে কমছে কেনাকাটার প্রবণতা। আর এসবের পুঞ্জীভূত ফলাফল হচ্ছে রাজস্ব আয়ে বিপুল ঘাটতি।
অর্থবছরের আট মাসে যা প্রায় সাড়ে ৭১ হাজার কোটি টাকা।বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা ভালো না।
এ জন্য সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও বেসরকারি খাতের খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তবে সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে ঋণ বেশি নেয় তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে এটা রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে দেখা যাবে যে, সরকার সংকটে পড়ে গেছে।রাজস্ব আদায় কিংবা অর্থনীতিতে দুরবস্থা থাকলেও, থেমে নেই সরকারের ব্যয়। যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা।
এ কারণে, ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে দু’হাত ভরে ঋণ করছে সরকার। অর্থবছরের ৯ মাসে যা প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা।
এই অর্থ ছাড়িয়ে গেছে পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাকে। অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কঠিন নীতি প্রবর্তন করেছে।
বিশেষ করে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত নীতির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে অর্থায়ন পেতে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া প্রায় অর্ধেক ব্যাংকই মূলধন ঘাটতিতে আছে। তাদের ঘাটতি ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। এসব ব্যাংকও বিনিয়োগ করতে পারছে না।
তথ্য বলছে, ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে শেষ তিন মাসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সরকার। কারণ, কেবল জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্তই নেওয়া হয় প্রায় ৫৬ হাজার কোটি, যা আগের ছয় মাসের চেয়েও বেশি।
আরও স্পষ্টভাবে বলা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তা প্রায় ৪১ হাজার কোটি। অর্থাৎ, বিএনপি সরকারের দেড় মাসেই তা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ।