| সংবাদ শিরোনাম: |
অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বিজ্ঞপ্তি দেখে ব্রাদার্স গ্রুপ নামক কোম্পানী, সাভারে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা বেতনসহ ,গাড়ী ও আনুসাঙ্গিক সুবিধাসহ চাকরিতে যোগদানের জন্য আসামীদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তাদের দেয়া ঠিকানা মোতাবেক অফিস কাম বাসা ডিএমপি কলাবাগানস্থ Asset Dreams Ville, কাঁঠাল বাগান, কলাবাগান, ঢাকার, ফ্ল্যাট নং-৩/বি- তে পৌছালে ১ নং আসামীর অফিস কাম বাসায় ১, ২ ও ৩ নং আসামীদের সাথে সাক্ষাতের সময় তারা বাদীকে লোভনীয় ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং শপথ পাঠ করিয়ে বাদীকে তাদের সাথে ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে নেয়, প্রলোভন দেখায় ও কোরান শপথ করায় ও বাদীকে বলে যে, আমরা সকলে এখন ভাই ভাই এবং আজ থেকে আমরা ব্যবসায়িক যৌথ পার্টনার। তারপর ১নং আসামী অন্যান্য বিবাদীদেরসহ বাদীকে শপথ পাঠ করার সময় বলে এ বিষয় নিয়ে বা এ সংক্রান্তে ফ্যামিলী বা কাউকে জানানোর দরকার নেই মর্মে জানান।
পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য মতে গত ২১ জুন আনুমানিক সকাল ১১:০০ ঘটিকায় উক্ত ঘটনাস্থলে ১, ২ ও ৩ নং আসামীদের সাথে একজন ভারতীয় নাগরিক/বায়ার সেজে আমাদের কোম্পানী থেকে কোটি টাকার রোলেক্স ঘড়ি ক্রয় করবে মর্মে জানান এবং অগ্রীম হিসেবে ৩,০০,০০,০০০/- ( তিন কোটি) টাকার চেক প্রদান করেন। তখন তাদের পূর্ব তথ্য মতে ২৫ জুন আনুমানিক দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় Asset Dreams Ville, কাঁঠাল বাগান, কলাবাগান, ঢাকার, ফ্ল্যাট নং-৩/বি-এ যেতে বললে বাদী উপস্থিত হলে ২ নং আসামী আল আমীন @ আঃ আজিজ বাদীকে রিসিভ করে আসামীদের অফিস নিয়ে যায় এবং তারা ২০,০০,০০০/- টাকা (বিশ লক্ষ) টাকা গ্রহন করেন। তারপর হতে তাদেরকে ব্যবসায়িক অংশীদারীর অংশ অথবা চাকুরীর কথা বললে তারা নানা রকম মিথ্যা আশ্বাসে সময় ক্ষেপন করতে থাকেন।
পরবর্তীতে উক্ত স্থানে গেলে জানতে পারেন, ২৮ জুন ভোর বেলায় তারা বাসা ছেড়ে চলে গেছে এবং উক্ত বাসার কোন ঠিকানা বাদীকে জানায় নাই। উক্ত আসামীদের ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারা বাদীর চরম ক্ষতি করবে মর্মে হুমকী প্রদান করে। তখন বাদী বুঝতে পারে তারা প্রতারক চক্র এবং উক্ত আসামীগণ পরস্পরে যোগসাজসে প্রতারণাম‚লকভাবে বাদীর নিকট হতে সর্বমোট ২২,০০,০০০/- (বাইশ লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে বাদী আসামীদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা রুজ্জু করেন। বাদীর উদ্ধার আবেদনের প্রেক্ষিতে ও মামলাটির গুরত্ব বিবেচনায় পিবিআই, ঢাকা মেট্রো ( উত্তর) স্ব-উদ্যোগে অধিগ্রহন করত বিশেষ গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে। পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করে ছদ্মনামা প্রতারক চক্রের গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা পূর্বক আসামী মোঃ আব্দুল আজিজকে গত ৩০ জুন গ্রেফতার করা হয়। ধৃত আসামীকে রিমান্ডে প্রাপ্ত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যাহা পর্যালোচনা করে গতকাল সন্ধ্যায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূল হোতা সহ ৫ সদস্যকে পিবিআই কর্তৃক আটক করা হয়। এসময় আরো একজন ভুক্তভোগী অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ইলিয়াস খানকেও একই কায়দায় প্রতারণা করার সময় নগদ ৭০,০০,০০০/- টাকাসহ উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছ্ েগত ৩ মাসের তদন্তকালীন সময়ে প্রায় ৫০ এর অধিক মোবাইল ফোন পরিবর্তনের তথ্য ও শতাধিক সীম পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন সময় বাসা ভাড়া করে নিজেদেরকে বড় কোম্পানীর মালিক দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্ররতারণার ফাদে ফেলে সর্বশান্ত করে। উক্ত প্রতারক চক্র অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক ও সরকারী কর্মকর্তাকে টার্গেট করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে নতুন নতুন অস্থায়ী অফিস স্থাপন করে পত্রিকায় নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে যোগাযোগের জন্য নাম্বার প্রদান করে।
ভিকটিমগণ চাকুরীরর উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করলে তাদের চক্রের সদস্যগণ ভিকটিমকে রিসিভ করে এবং অফিস কাম বাসভবনে নিয়ে যায় এবং হাই ফাই পরিবেশ ও উন্নত আদর আপ্যায়ন এবং বড় ব্যবসা চলছে এরুপ ধারণা প্রদান করে। ভিকটিমদেরকে ধারণা দেয় যে, তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে, তাদেরকে ভালো সন্মানী দিবে, যাতাযাতের জন্য গাড়ী দিবে, টেলিফোন ও অন্যান্য ভাতা দিবে এবং মালিকপক্ষ ব্যবসায়িক কারণে বেশিরভাগ সময় দেশের বাহিরে থাকে, অনেক বড় বড় ব্যবসা আছে ভিকটিমদের বিশ^স্ততার সাথে ঐ ব্যবসা চালাতে হবে, এক পর্যায়ে বিদেশ থেকে দামী সব ঘড়ি রাডো, রোলেক্স, ওমেগা ইত্যাদি আমদানি করে দেশে এবং ভারতে রপ্তানী করে, কারণ বাংলাদেশ হতে কম ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা করা যায়। যে সব দেশে ভ্যাট বেশি সে সব দেশে বেশি দামে বেশি লাভে বিক্রি করতে পারবে বলে বুঝায়, ইতিমধ্যে আসামীদের একজন নাটক হিসেবে ভারতীয় ক্রেতা সেজে ৩ কোটি টাকার এডভান্স চেক প্রদান করে। ভিকটিমকে বিশ^াস জন্মায় অনেক বড় ব্যবসা অনেক বড় লাভ, পার্টনার হলে লাভবান হবে এবং ভিকটিমদেরকে কৌশলে ব্যবসার পার্টনার করার জন্য পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে ভাই ভাই হিসেবে সমান সমান পার্টনার হিসেবে শপথ করায়।
ঘড়ির নানান স্যাম্পল প্যাকেট , ডিজাইন দেখায়, কাগজপত্র দেখায়, এল/সি দেখিয়ে বিশ^াস অর্জন করে। অতপর ভিকটিমকে নানা কৌশলে এবং অযুহাতে টাকা নিতে থাকে এবং বড় অংকের টাকা হাতিয়ে অফিস ছেড়ে দিয়ে হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যায়। পূর্বের মোবাইল ফোন ও সীম পরিবর্তন করে ফেলে। আবার নতুন জায়গায় নতুন অফিস খোলে। এই চক্রের একজন নারী সদস্য, নতুন নতুন অফিস কাম বাসা ভাড়ার ব্যাপারে মানুষকে কনভিন্স করতে সহায়তা করে। মানুষ মনে করে তারা একই পরিবারের সসদ্য । মেয়েটা কাজের মেয়ে পরিচয় দিলেও কখনও বোন হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন বাসায় তাদের প্রতারণার গোপনীয়তা রক্ষা করে কাজ করে।