ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● দেবীর বোধন আজ, কাল শুরু দুর্গোৎসব ● পাবিপ্রবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ৭ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ২ জনকে জরিমানা ● এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ● যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা,তিন শিশুসহ নিহত ৪ ● মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ঘোষণা বাংলাদেশের ● নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ ● যুক্তরাষ্ট্রে মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা, ১৯ বছরের তরুণ গ্রেপ্তার ● ধর্মঘটের মুখে উত্তরার ৫ পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ● বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে কমিটি ● উত্তরা ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পাচারের অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
হিন্দু ধর্মের মহা উৎসব

দেবীর বোধন আজ, কাল শুরু দুর্গোৎসব

আ জা ডেস্ক

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর,২০২৬, ১০:১১ এ এম
দেবীর বোধন আজ, কাল শুরু দুর্গোৎসব

দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। পুরাণ মতে অকালবোধনে নিদ্রিত দেবীকে জাগ্রত করার এই শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।

প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়।

তবে এ বছর মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা এক দিন বেড়ে চলবে ছয় দিন।

এ হিসাবে আগামী শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার মহাসপ্তমী (অধিক পূজা), সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমী শেষে বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, জগতের কল্যাণ কামনায় এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসবেন দেবী দুর্গা।

পূজা শেষে নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন তিনি। দুর্গোৎসবের আর মাত্র একদিন বাকি।

এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কারিগররা।

পূজার আগমুহূর্তে প্রতিমায় রং করা, সাজসজ্জা ও অন্যান্য কাজ দ্রুত শেষ করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করেছে সরকার।

সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবারের ছুটির সঙ্গে এ ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি উপভোগ করবেন সংশ্লিষ্টরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এই দুর্গোৎসবটি গভীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে।

এটি অসুররাজ মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়কে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুর এমন এক বর লাভ করেছিলেন, যার ফলে কোনো পুরুষের হাতে তার মৃত্যু ছিল অসম্ভব।

এ ক্ষমতার বলে তিনি দেবতাদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন। তখন দেবতারা তাদের সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে সৃষ্টি করেন, যিনি মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত তাকে পরাজিত ও বধ করেন।

গত ১০ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করেছেন।

যা দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা বয়ে আনে। দুর্গাপূজা শুধু একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উদযাপিত হয়।

এ উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক দুর্গাপূজা।

এবার সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে; যা গত বছরের চেয়ে ৪৯৬টি বেশি।

তবে ঢাকা মহানগরীতে রাস্তার ওপর পূজা আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৮টিতে।

এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য বেশ কিছু জরুরি দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো খবরের সত্যতা যাচাই না করে তাতে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র স্থাপন এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত পথ অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড নিশ্চিত করতে আয়োজকদের বলা হয়েছে।

পূজা চলাকালীন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আজান ও নামাজের সময় মসজিদের পার্শ্ববর্তী পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে।

পাশাপাশি যেকোনো ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকেও বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭, ০১৩২০০০১২৯৯, ০১৩২০০০১৩০০), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) (০২২২৩৩৫৫৫০০, ০১৮১৭৬০২০৫০), ঢাকেশ্বরী মন্দির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২৯৬১১৩৫৩, ০১৭০৫৫০৫৫২৯) এবং ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২২২৩৩৫৫৫৫৫, ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২, ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯)। সূত্র : বাংলাদেশের খবর।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)