ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটনের প্রাণচাঞ্চল্য, চাঙা স্থানীয় অর্থনীতি ● নাটোরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২, আহত ৩০ জন ● প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা ● জমির মালিকানা দাবিতে প্রমাণ না থাকলে মিলবে না অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা...হাইকোর্ট ● প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব ● সরকারি হাসপাতাল না থাকায় লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ● ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দশমীতে সিঁদুর খেলায় মাতলেন...শাওন ● বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ ● ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে ফ্লাইট শুরু করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ● আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের সম্পদ লুট করেছে....মেজর হাফিজ
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

জমির মালিকানা দাবিতে প্রমাণ না থাকলে মিলবে না অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা...হাইকোর্ট

অ্যাড: নীলিমা আফরোজ

প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
আপডেট : বুধবার, ২১ অক্টোবর,২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
জমির মালিকানা দাবিতে প্রমাণ না থাকলে মিলবে না অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা...হাইকোর্ট

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে না।

এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা পেতে আবেদনকারীকে নিজের দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রাথমিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

শুধু জমির দখলে থাকা, দলিল থাকার দাবি করা কিংবা নামজারির তথ্য উল্লেখ করলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যাবে না।

সম্প্রতি এক রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় করা একটি আবেদন খারিজ করে এ সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের একক বেঞ্চ।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রায়টি দেওয়া হয়। পরে ১৮ অক্টোবর রায়টি প্রকাশ করা হয়।

মামলার বাদী মো. ইসহাক আলী (মৃত) ও তার উত্তরাধিকারীদের দাবি, ১৯৪৪ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারি একটি দলিলের মাধ্যমে তারা বিরোধপূর্ণ জমিটি কেনেন এবং পরবর্তী সময়ে তা ভোগদখল করেন।

তাদের অভিযোগ, জমির খতিয়ানে ভুলভাবে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ১৯৭৭ সালে একটি স্বত্ব মামলায় রায় ও ডিক্রি পাওয়ার ভিত্তিতেও জমিটির মালিকানা দাবি করেন তারা।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে তাদের নামজারি বাতিল করে জমিটি অন্যদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় জমির ওপর নিজেদের অধিকার রক্ষায় মামলা করার পাশাপাশি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান তারা।

অন্যদিকে, সরকারি পক্ষের দাবি, জমিটি অর্পিত সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত। জমির মালিকানা প্রমাণে বাদীপক্ষের উপস্থাপিত দলিল এবং আগের মামলার রায় ও ডিক্রির সত্যতা নিয়েও আপত্তি তোলে তারা।

প্রথমে বিচারিক আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন।

এরপর অতিরিক্ত জেলা জজ মামলাটি ফেরত পাঠিয়ে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির আওতাভুক্ত কি না এবং এ অবস্থায় মূল মামলাটি আইন অনুযায়ী চলতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন করেন বাদীপক্ষ। নথিপত্র পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দেখতে পান, বাদীপক্ষের মালিকানা দাবির অন্যতম ভিত্তি ১৯৪৪ সালের একটি অনিবন্ধিত দলিল।

এ ছাড়া ১৯৭৭ সালের স্বত্ব মামলার রায় ও ডিক্রির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মামলার রেজিস্টারের সঙ্গে আদালতে উপস্থাপিত রায় ও ডিক্রির সত্যায়িত অনুলিপির মিল পাওয়া যায়নি।

বাদীপক্ষ জমির নামজারি সংশোধন এবং সংশোধিত এসএ খতিয়ানের কথা বললেও সংশ্লিষ্ট খতিয়ান বা নামজারির নথি আদালতে জমা দিতে পারেননি।

এসব কারণে জমিটির মালিকানা দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মনে করেন হাইকোর্ট।

রায়ে আদালত বলেন, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে বাদীর দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

একই সঙ্গে মূল মামলাটি আইন অনুযায়ী দায়ের করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ সময় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর ৭ ও ১৩ ধারাও আলোচনা করেন আদালত।

তবে মূল মামলার প্রয়োজনীয় আরজি হাইকোর্টে উপস্থাপিত না হওয়ায় মামলাটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি আদালত।

বাদীপক্ষ জমির মালিকানা দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি এবং নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো আইনগত ভুলও পাওয়া যায়নি বলে রায়ে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।

পরে সিভিল রিভিশনের রুল খারিজ করে আগের অন্তর্বর্তী আদেশ প্রত্যাহার করেন আদালত।

একই সঙ্গে মামলাটি তখনও নিষ্পত্তি না হয়ে থাকলে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ না করে যত দ্রুত সম্ভব তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন নিম্ন আদালতকে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)