সাইফুল আলম সরকার ঢাকা :
রাজধানীতে 'দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ' নামক একটি পত্রিকার সম্পাদক সেজে জাল নিয়োগপত্রের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মো: খাইরুল আলম রফিক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞ আদালতের কড়া নির্দেশনায় পল্টন থানায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬/৪৬৭/৪৬৮/৫০৬ ধারায় এই নিয়মিত মামলাটি (মামলা নম্বর: ০৭, তারিখ: ০৮/০৭/২০২৬) রুজু হয়।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলায় যুক্ত হওয়া ফৌজদারি ধারাগুলো অত্যন্ত গুরুতর।
বিশেষ করে ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারা দুটি অ-জামিনযোগ্য এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
অপরাধের এমন ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।
মামলার বাদী সংবাদকর্মী মো: শহিদুল ইসলাম (৪৫), পিতা- মৃত আ: মজিদ মোল্লা, বর্তমান ঠিকানা- ৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা।
অপরদিকে একমাত্র আসামি মো: খায়রুল আলম রফিক (৫০), পিতা- মৃত ছালিম উদ্দিন, বর্তমান ঠিকানা- ২২ নং ইন্দিরা রোড, ফার্মগেট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, আসামি খাইরুল আলম রফিক নিজেকে 'দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ' পত্রিকার সম্পাদক দাবি করে বাদীকে সহকারী সম্পাদক এবং ৩নং সাক্ষী মির্জা সুবেদ আলী রাজাকে ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রলোভন দেখান।
এর প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই ২০২২ তারিখে পল্টনের কার্যালয়ে বাদী ও সাক্ষীর কাছ থেকে মোট ৩০ লক্ষ টাকা নগদ গ্রহণ করে একটি নিয়োগপত্র প্রদান করেন।
বাদী সরল বিশ্বাসে উক্ত পদে প্রায় ২ বছর দায়িত্বও পালন করেন। ঘটনার নেপথ্যে আসলে কি ঘটনা রয়েছে তা জানার জন্য 'দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ'-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান উল্টো কথা।
তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত দিন ও সময়ে তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন এবং এর পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে।
তাঁর ভাষায়, “এটি একটি সাজানো মামলা। আদালতে আমি ন্যায়বিচার পাব বলে বিশ্বাস করি।”
তবে একজন নতুন সাংবাদিক আমাকে নিয়োগ পেতে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে এটি হাস্যকর কথা? কোন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আমাকে দিয়েছেন তিনি মামলায় তা উল্লেখ করিনি। তবে সাংবাদিক নেতারা দাবি করেন এটা সাজানো একটি মামলা।
সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক বলেন, মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা। আওয়ামী লীগের এমপি নিক্সন চৌধুরী ও শহিদুল ইসলামসহ ১০৬ জনের মামলা রয়েছে। যার মামলা নং- ৮২।
আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম ২০১৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অশ্লীল মানহানিকর মন্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা হয়।
শহিদুল ইসলামসহ ৮০ জনের নামে পিবিআই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা নং- ৭৫৪/২০২৫। রফিক আরও বলেন, বাদীসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে শহিদুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান ।
এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
তাঁর দাবি অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা নং-১০ (তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬) এবং ময়মনসিংহের আদালতে শহিদুল ইসলাম, মির্জা সুবেদ আলী রাজাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা (মামলা নং-৩৪৯/২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
টাকা লেনদেন করে সাংবাদিক বানানোর বিষয় নিয়ে স্থানীয় সকল সাংবাদিক মহলে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। তাই সকল সাংবাদিক এটি নিয়ে সঠিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করবে এবং প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে বিচার করবেন সেই প্রত্যাশাই করছে সকল সাংবাদিক মহল।