নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতে নির্বাচনী জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।
শনিবার ১০ অক্টোবর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ‘ভারতের তরুণদের প্রতি সংহতির বিবৃতি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারী, সংগঠক ও সাংবাদিকদের আটক করার নিন্দা জানান।
একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে বিধিনিষেধ আরোপের খবর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, “নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের জবাব হওয়া উচিত স্বচ্ছ ব্যাখ্যা, ব্যারিকেড ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়।”
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে ভারতের তরুণদের আন্দোলনের তুলনা করে তিনি বলেন, নিয়োগে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
জাতিসংঘের একটি হিসাবের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই অভ্যুত্থান ও তা দমনের ঘটনায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।
বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের সংহতির কথাও স্মরণ করেন নাহিদ।
তাঁর মতে, পুরো অঞ্চলের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা এক—জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা।
ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরে নাহিদ শাহিনবাগ আন্দোলন এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন।
ভারত ও বাংলাদেশের আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রামে তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
ধর্মীয় আধিপত্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণিনির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘুরা ভয়ের মধ্যে থাকলে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলে এবং পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হলে কোনো সমাজই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হতে পারে না।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই মুখপাত্র আটক আন্দোলন সংগঠকদের অবস্থান এবং তাঁদের আটকের আইনি ভিত্তি প্রকাশের দাবি জানান।
পাশাপাশি অধিকার চর্চার কারণে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি কিংবা সরঞ্জাম জব্দের শিকার না হয়ে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কারাবন্দি অ্যাক্টিভিস্ট শরজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ভারতের আটক বিক্ষোভকারী ও বিবেকের বন্দিদের সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, তাঁদের সাহস দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের অনুপ্রাণিত করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত আঞ্চলিক বিষয়—সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পানিবণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব—সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সমাধানেরও আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ বলেন, “ঢাকা থেকে, আমাদের জুলাই প্রজন্মের অপূর্ণ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা থেকে আমরা আপনাদের পাশে আছি।”
সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান, ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভারতের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।