নিজস্ব প্রতিবেদক নারায়ণগঞ্জ
চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষকদলের সাধারন সম্পাদক ফয়সালকে আটক করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ঘটিকার সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই বেলাল ৬নং ওয়ার্ডস্থ গোদনাইল বার্মাষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফয়সালকে আটক করেন বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে জানা যায়, গোদনাইল পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর চেকারম্যান রফিকুলের চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিকে কৃষকদল নেতা ফয়সালকে আটক করে থানায় আনার পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নারায়ণগঞ্জ ডিবি অফিসে নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে ফয়সালকে ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করেছি।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে চাঁদাবাজ ফয়সালকে আটকের খবরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পদ্মা ডিপোর কর্মকর্তা কর্মচারী ও বৈধ তেল ব্যবসায়ীরা।
ফয়সালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত ০৫/০৮/২০২৪ তারিখ ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকেই ফয়সাল তার রাজনৈতিক পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে গোদনাইল পদ্মা ডিপোর বিভিন্ন পয়েন্টে কর্মরত জ্বালানী তেলের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলো।
তাছাড়া গত জুলাই ২০২৬ এ বিভিন্ন সময় ফয়সাল তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ ০১৭৭৯-৬৬৮৫২৭ থেকে গোদনাইল ডিপোর জেট ফুয়েলের এ- ১ পয়েন্টে নিয়োজিত সকল কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বিবাদী এককালীন ২০,০০,০০০/-(বিশ লক্ষ) টাকা এবং প্রতি মাসে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে।
ফয়সালকে অবৈধ দাবীকৃত চাঁদা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে গত ০১/০৮/২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১:১৫ টার সময় ফয়সাল তার সাথে ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে “নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের গোদনাইলস্থ পদ্মা অয়েল পিএলসি গোদনাইল ডিপোর” ভিতরে অনধিকার প্রবেশ করে পূর্বক জেট এ-১ পয়েন্টসহ অন্যান্য পয়েন্টে বাদী রফিকুল ইসলামকে খোঁজাখুঁজি করে।
তখন রফিকুল ইসলামকে না পেয়ে ফয়সাল ডিপোতে কর্মরত অন্যান্য সহকর্মী ও অন্যান্য স্টাফদের নিকট জানায় যে, চেকার মোঃ রফিকুল ইসলামকে বলবি যদি তোরা এখানে শান্তিতে চাকরি করতে চাস তাহলে ২০ লক্ষ টাকা আমার অফিসে পৌঁছে দিতে।
অন্যথায় রফিকুল ইসলামসহ তোদেরকে এই ডিপো থেকে বের-তো করবোই এবং মেরে শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দিবো।
এর পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিবাদী মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে এবং সরাসরি তার দাবিকৃত চাঁদার টাকা দেয়ার জন্য হুমকি প্রদান অব্যাহত রাখেন।
সর্বশেষ ০৭/০৯/২০২৬ তারিখ সকাল ১১:০২ টার সময় ফয়সাল তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে রফিকুলকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে পুনরায় এককালিন ২০,০০,০০০/-(বিশ লক্ষ) টাকা এবং সেই সাথে প্রতিমাসে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তার দাবীকৃত চাঁদার টাকা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে, রফিকুল ও তার সহকর্মীদেরকে কর্ম ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়রানি ও মারধর করাসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
বিবাদীর হুমকির কারণে পদ্মা ডিপোতে কর্মরত অন্যান্য সহকর্মীরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে রফিকুল এবং তার সহকর্মীদেরকে মারপিট করা সহ ডিপো এলাকায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের যেকোনো প্রকার ক্ষতিসাধন করিতে পারে।
রফিকুলের এই অভিযোগের ভিত্তিকে অবশেষে কৃষকদল নেতা চাঁদাবাজ ফয়সালকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে।
এদিকে ফয়সালের আটকের খবরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গোদনাইল পদ্মা ডিপোর কর্মকর্তা কর্মচারীসহ বৈধ তেল ব্যবসায়ীরা।
এসময় তারা চাঁদাবাজ ফয়সালের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।