ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

আগামী ০১ আগস্ট থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুরা পাবে টাইফয়েড টিকা ইরান উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে চাপ ১০ হাজার সেনা পাঠাতে ভাবছেন ট্রাম্প, জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক আজ ইউরোপীয় ফুটবলে মুসলিম পরিচয়ের নতুন বাস্তবতা অর্থপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধার মন্দির সভাপতি হরিদাস গ্রেফতার মেসিকে ‘ঘুম পাড়াবে’ ইংল্যান্ড, ব্রিটিশ তারকা জো কোলের হুংকার মডেল মসজিদেও হরিলুট:১৩ কোটির খরচ ২১ কোটি উল্লেখ,তদন্তের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চকরিয়া বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে স্বপ্নতরী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন, ৫০ পরিবার পেল ত্রাণ বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায়...ছাত্রশিবি রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৩ হাজার কোটি টাকা কম ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ ১৩ জনের ছবি প্রকাশ করেছন
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের

অর্থপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধার মন্দির সভাপতি হরিদাস গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক গাইবান্ধা

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুলাই,২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
অর্থপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধার মন্দির সভাপতি হরিদাস গ্রেফতার

ধর্মীয় পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ হুন্ডি এবং অর্থপাচার সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছিলেন গাইবান্ধার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস (৪৩)।

অবশেষে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের এই সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সরোয়ার আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান।

রোববার ১২ জুলাই দিবাগত মধ্যরাতের পর মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেই হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর আগে, সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) ইউনিট গত রোববার শেষ রাতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, হরিদাস এবং তার অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন সহযোগী মিলে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত হুন্ডি সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন।

তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি মুদ্রার অবৈধ লেনদেন ও স্থানান্তরের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের সূত্র ধরে সিআইডি জানায়, হরিদাসের নামে থাকা দুটি বেসরকারি ব্যাংকের পাঁচটি হিসাব এবং বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) চারটি অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে সিআইডির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি হরিদাসের এসব ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাঠিয়েছেন।

অথচ তদন্তে তার উপার্জনের কোনো বৈধ বা পরিচিত উৎসের সন্ধান মেলেনি, যা তার জীবনযাত্রা বা পেশার সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ মূলত অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত।

পরবর্তীতে এই কালো টাকার অবৈধ উৎস, প্রকৃতি, অবস্থান ও মালিকানা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যে তা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।

এই অর্থ ব্যবহার করে হরিদাস নিজের এবং অন্যান্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।

তবে তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে পাচারকৃত অর্থের এই পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

সিআইডি আরও প্রকাশ করেছে যে, হরিদাস বিভিন্ন মহলে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিতেন।

সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিজের এডিট করা ছবি প্রদর্শন করতেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সাজানো ভুয়া ফোনকলের রেকর্ড শোনাতেন।

মূলত সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি বাণিজ্য, হুন্ডি ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই সিআইডি এই অনুসন্ধান শুরু করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, হরিদাসের অতীত অপরাধের রেকর্ড ঘাঁটতে গিয়ে এর আগে ঢাকার বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলার খোঁজও মিলেছে।

ব্যাংকিং নথিপত্র, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও সংগৃহীত নানামুখী প্রমাণের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়।

উল্লেখ্য, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার যে মন্দিরটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন, সেই মন্দির চত্বরে একটি ৮০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক সমাদৃত ও আলোচিত হয়েছিল।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)