এস এম মিজান
আর কয়েক ঘন্টা পর শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।
পরীক্ষায় এবার মোট শিক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। সোমবার ২০ এপ্রিল সচিবালয়ে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ কথা জানান।
এ সময়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।
এবার ৩০ হাজার ৬৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেবেন। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে মোট শিক্ষার্থী ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন।
এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন। মোট পরীক্ষা কেন্দ্র ৭৪২টি।
এছাড়া কারিগরি বোর্ডে এসএসসিতে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন। কারিগরি বোর্ডে মোট কেন্দ্র ৬৫৩টি।
পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা।
কেন্দ্রের আশপাশে যানজট ও জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে আটটা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিকেলে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিবদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ সংক্রান্ত আগের নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ও সহযোগিতা পেতে নির্ধারিত ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে এবং এসব তথ্য গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশকিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ব্যবহারিক অংশে স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।
বিগত বছরগুলোতে ব্যবহারিক পরীক্ষায় শৈথিল্য প্রদর্শন বা ‘গড়পড়তা’ নম্বর দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা বন্ধ করতে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২০ ধরনের সম্ভাব্য অপরাধ চিহ্নিত করে জেল ও বহিষ্কারসহ তিন স্তরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
যা কার্যকর করতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে ভিজিল্যান্স টিম নামানো হচ্ছে।কেন্দ্র সচিবদের জানানো হয়েছে, তাত্ত্বিক পরীক্ষা যে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে, ব্যবহারিক পরীক্ষাও সেই কেন্দ্রেই নিতে হবে।
এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষক নিয়োগে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন।
কোনোভাবেই নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বহিরাগত পরীক্ষক’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
এছাড়া পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দ ডাকযোগে না পাঠিয়ে সরাসরি বোর্ডে হাতে হাতে জমা দিতে হবে।
এই নিয়মে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পরীক্ষার হলে নকলের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা হয়।