এস এম মিজান
ঢাকা ডেমরায় থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) রূপগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, একটি একনলা শুটারগান ও আটটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় মাদক কারবারে বাধা দেওয়া এবং ফুটপাত ও পরিবহন স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামির নাম তরিকুল ইসলাম ওরফে তাপস, যিনি ছাত্রদল নেতা মাসুদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা জানান, শুক্রবার ভোররাতে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা আটজন ব্যক্তি ওই বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালান।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৮ আগস্ট ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় রেজা চৌধুরীর বাসার সামনে প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে নামেন।
তাদের পেছনে আরও তিনটি মোটরসাইকেল এসে দাঁড়ায়। প্রথম মোটরসাইকেল থেকে নামা এক যুবক তার কাঁধে থাকা ক্রিকেট ব্যাটের কাভার থেকে একটি একনলা শুটারগান বের করেন।
অপরজন কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে নিচের দিকে একটি ফাঁকা গুলি করেন এবং পরে বাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।
এরপর শুটারগানধারী যুবক পিস্তলটি হাতে নিয়ে পুনরায় বাড়ি লক্ষ্য করে আরও দুটি গুলি ছুড়ে হুমকি দিতে দিতে সহযোগীদের নিয়ে দ্রুত চলে যান।
এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে রেজা চৌধুরী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় মামলা করেন।
হামলার নেপথ্যের কারণ হিসেবে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানায়, ডেমরা এলাকায় অনলাইনে মাদক কেনাবেচায় বাধা দেওয়া এবং স্থানীয় বিভিন্ন খাত থেকে চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে এই হামলার সূত্রপাত।
রেজা চৌধুরী তার দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, এলাকায় অনলাইনে মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তার বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের দাবি, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা আওয়ামী লীগ আমলের মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।
মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার কারণে মাসুদ তাকে হুমকিও দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘মাসুদ একদিন আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, কাকা কেউ তো মাদক নিয়ে কথা বলে না।
তাহলে আপনি কেন মাদক নিয়ে এত কথা বলেন?’
তবে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে কেবল মাদক ব্যবসা নয়, স্থানীয় ফুটপাত ও টেম্পোস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেজা চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির আরেকটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
এই কোন্দলের জেরে এটা ঘটে থাকতে পারে।