অমিতাভ শাহা
কাজের খোঁজে ৫০,০০০ কি.মি.র অবিশ্বাস্য সমুদ্রযাত্রা ওস্কার স্পেকের। ১৯৩২ সালের কথা।
একটিইমাত্র লক্ষ্য সাইপ্রাসের তামার খনিতে কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে জার্মানির হ্যামবার্গ শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন যুবক ওস্কার স্পেক।
তাঁর সাথে ছিল একটি মাত্র ফোল্ডিং কায়াক (নৌকা) এবং মনে ছিল অপ্রতিরোধ্য সাহস । কিন্তু যা শুরু হয়েছিল নিছক এক চাকরির সন্ধানে, তা পরিণত হলো মানব ইতিহাসের অন্যতম সেরা নৌ-অভিযানে — সাত বছর ধরে প্রায় ৫০,০০০ কিলোমিটারের এক অবিশ্বাস্য পথ পাড়ি দেওয়া।*"............. , , *"স্পেক ইউরোপের নদী-নালা পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্র ধরে তাঁর একক যাত্রা চালিয়েছেন।
এই দীর্ঘ পথে প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর লড়াই ছিল নিরন্তর। তিনি ম্যালেরিয়া, সর্বস্ব চুরি, ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ও সীমাহীন নিঃসঙ্গতার মতো হাজারো প্রতিকূলতা অতিক্রম করেন।"*....... , , *'স্থানীয়রা এই ভাঁজ করা ছোট্ট কায়াকে চেপে আসা একা মানুষটিকে দেখে একই সাথে মুগ্ধ ও অবাক হয়ে যেতেন, কেবল অদম্য মানসিক শক্তি আর মাঝে মাঝে পাওয়া নারকেল বা সার্ডিনের খেয়েই এগিয়ে চলেছিলেন।"*......... , , *"দীর্ঘ সাত বছরের কঠিন তপস্যার পর, ১৯৩৯ সালে, তিনি অবশেষে বিজয়ী বেশে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পৌঁছান।
কিন্তু নিয়তির পরিহাসে তখন ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে গেছে, যা স্পেক জানতেও পারেননি। কর্তৃপক্ষের চোখে তিনি তখন আর কোনো অভিযাত্রী নন, বরং একজন ‘শত্রু’ জার্মান নাগরিক।
ফলস্বরূপ, উপকূলে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তী সাত বছর তাঁকে বন্দি শিবিরে কাটাতে হয়।"*............. , , *"১৯৪৬ সালে তিনি মুক্তি পান।
জন্মভূমিতে ফিরে না গিয়ে স্পেক অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং লাইটনিং রিজ নামক জায়গায় ওপাল খনন করে এক শান্ত জীবনযাপন বেছে নেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরেই থেকেছেন।
এই অবিশ্বাস্য অভিযানের বিষয়ে তিনি শুধু এইটুকুই বলেছিলেন, “আমি তৃপ্ত। আমি কী করেছি, তা আমি জানি।”*......... , , *"ওস্কার স্পেক ১৯৯৩ সালে ৮৬ বছর বয়সে প্রয়াত হন।
তাঁর এই একক, অপ্রতিরোধ্য এবং নজিরবিহীন কায়াকিং-এর কীর্তি আজও দুঃসাহসিক অভিযানের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র : অমিতাভ শাহা, ইন্টারনেট। Chandrabindu_Travel_Group. চন্দ্রবিন্দু_ট্রাভেল_এন্ড_ট্যুরিজম।