ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে মস্কো ও কিয়েভে দুজন দূত পাঠাচ্ছেন...ডোনাল ট্রাম্প লংমার্চে বাধা দিলে ৬ দফা দাবি ১ দফায় পরিণত হবে...নাহিদ ইসলাম গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে শ্যামপুর-কদমতলীতে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা কক্সবাজারে দুই হাজার আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেফতার যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকার ছয় দেশে নিহত ৮০ জনের বেশি নারায়ণগঞ্জে ডিজিএফআই পরিচয়ে অপহরণ, পাজেরো থেকে সিএনজি চালক উদ্ধার বর্নাঢ্য আয়োজনে “পারি সদস্য সম্মেলন'২৬" অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন আমরা করছি না...মিয়া গোলাম পরওয়ার
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
বিবিসি গ্লোবাল ইনফর্মেশন ইউনিটের

যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকার ছয় দেশে নিহত ৮০ জনের বেশি

আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স

প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকার ছয় দেশে নিহত ৮০ জনের বেশি

গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আফ্রিকার ছয়টি দেশে ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র মতো মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এসব হত্যাকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট।

এই সহিংসতার পেছনে রয়েছে এমন একটি গুজব, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—কারও পিঠে হাত দিয়ে সামান্য টোকা দিলেই পুরুষের যৌনাঙ্গ ছোট হয়ে যেতে পারে, এমনকি তা অদৃশ্যও হয়ে যেতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য এই গুজবকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

অপরিচিতের স্পর্শ, এরপরই ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র অভিযোগ:

তানজানিয়ার মেকানিক বনিফাস এমগালা গত এপ্রিলে নিজের ওপর হওয়া হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “তারা চিৎকার করে বলছিল যে আমরা কারও যৌনাঙ্গ চুরি করেছি এবং সেখান থেকে পালানোর কোনো উপায় ছিল না, কারণ সেখানে বিশাল ভিড় জমে গিয়েছিল।”

বিবিসির যাচাই করা কয়েকটি ভিডিওতেও একই ধরনের ঘটনার চিত্র পাওয়া গেছে।

সেখানে কয়েকজন পুরুষ দাবি করছেন, অপরিচিত কারও সংস্পর্শে আসার পর তাদের যৌনাঙ্গ—পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষ—হয় গায়েব হয়ে গেছে, নয়তো সংকুচিত হয়েছে।

এরপর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথাকথিত চুরি যাওয়া যৌনাঙ্গ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করছে।

আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা একেবারে নতুন নয়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জাদুটোনার প্রতি মানুষের বিশ্বাস এখনো প্রবল, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের ভয় ও কুসংস্কার বিদ্যমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই পুরোনো আতঙ্ককে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত বছর গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে নতুন করে এই ধরনের গুজবের বিস্তার শুরু হয়।

তবে ২০০৮ সালেও দেশটিতে একই ধরনের অভিযোগের ঘটনা ঘটেছিল। পরে গুজবটি পাশের বুরুন্ডি, জাম্বিয়া ও তানজানিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, মালাউই ও কেনিয়াতেও একই ধরনের দাবি ও সহিংসতার ঘটনা সামনে আসে।

তুন্দুমায় হামলা, প্রাণ গেল বন্ধুর:

জাম্বিয়ায় গত মার্চে ‘অঙ্গহানি’র এই গুজব নতুন করে তীব্র হয়। সে সময় এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এরপর তানজানিয়ার সীমান্তের ওপারেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জাম্বিয়া সীমান্তের কাছের তানজানিয়ার ব্যস্ত বাণিজ্যিক শহর তুন্দুমায় নিজের বাড়িতে বসে সেই সময়ের কথা স্মরণ করছিলেন বনিফাস এমগালা।

তিনি বলেন, “সেদিন যে মৃত্যুর কত কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম তা যদি আগে জানতাম, তবে আমি ওই রেস্তোরাঁয় খেতে যেতাম না।

আমাদের আসলে ধারণা নেই যে মৃত্যু কতটা কাছাকাছি।” গত ১ এপ্রিল একটি গাড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ক্রেতার সঙ্গে দেখা করতে এমগালা ও তার এক বন্ধু তুন্দুমায় যান।

কাজ শেষ হওয়ার আগে তারা সেখানে দুপুরের খাবার খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু রেস্তোরাঁয় বসার অল্প সময়ের মধ্যেই একদল উন্মত্ত মানুষ তাদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে। হামলার দৃশ্যমান চিহ্ন এখনো বহন করছেন এমগালা।

তার থুতনিতে দুটি ছোট ক্ষত রয়েছে এবং একটি দাঁতও ভেঙে গেছে। একপর্যায়ে মারধরের কারণে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

দুই দিন পর হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তার সঙ্গে থাকা বন্ধু মারা গেছেন। এখনো খুঁড়িয়ে হাঁটেন এমগালা। কাজে ফিরতে পারেননি।

স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে বাড়িতেই থাকছেন তিনি। প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের ব্যয় বহনে প্রতিবেশী ও বন্ধুরা তাকে সহায়তা করছেন।

দোকানের সামনে পুড়িয়ে হত্যা:

এমগালা ও তার বন্ধুর ওপর হামলার দিনই তুন্দুমায় একই ধরনের আরেকটি সহিংসতার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন ফটোগ্রাফার ও ব্যবসায়ী মাইকেল সিলাভওয়ে।

তার ভাষ্য, ‘চুরি যাওয়া যৌনাঙ্গ’ নিয়ে ভিডিওগুলো টিকটকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক বাড়তে থাকে। নিজের দোকানের বাইরে তিনি লোকজনকে দৌড়াতে দেখেন।

পরে জানতে পারেন, কাছাকাছি এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়েছে।

পরে ওই ব্যক্তিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ২৩ বছর বয়সী মাইকেল সিলাভওয়ে বলেন, “তারা তাকে আগুন দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।”

টিকটক ও ফেসবুকে এক লাখের বেশি মানুষ দেখেছে—এমন একটি ভিডিওও যাচাই করেছে বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট।

ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ একজন ব্যক্তিকে মারধর করছে এবং একই সঙ্গে এক ব্যক্তির ‘চুরি যাওয়া’ যৌনাঙ্গ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

সিলাভওয়ের মতে, এরপর এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে থাকে এবং অনেক মানুষকে মারধরের শিকার হতে হয়। তিনি জানান, তার মতো আরও অনেক তরুণ তখন সত্যিই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

তবে এখন তিনি বুঝতে পারছেন, এসব গুজবের কোনো সত্যতা নেই।

গুজবের সত্যতা নেই বুঝলেও কাটেনি আতঙ্ক:

তানজানিয়ার মোম্বা জেলার তুন্দুমা এলাকার ৫০ বছর বয়সী ফ্যাশন ডিজাইনার আশা স্টিভেন এমওয়াকিলাসাও পরে বুঝতে পারেন, এসব দাবি সত্য নয়।

তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পেরেছি যে এটি সত্যি ছিল না।” তবে বিষয়টি জানার পরও তার ভয় পুরোপুরি কাটেনি।

বিশেষ করে স্বামী বা ছেলেরা বাড়ির বাইরে গেলে তিনি এখনো উদ্বিগ্ন থাকেন। অবশ্য পুলিশ নিয়মিত টহল দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তিও পাচ্ছেন তিনি।

মোম্বা জেলার কমিশনার এলিয়াস ডেনিয়েল এমওয়ান্দোবো জানান, তদন্তে কিছু ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট অপরাধমূলক উদ্দেশ্য থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, “কিছু ব্যক্তি অপরাধ সংঘটিত করার জন্য এবং নিজেদের লাভের উদ্দেশ্যে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর ষড়যন্ত্র করেছিল।”

তানজানিয়ার প্রধান শহর দার এস সালামে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতেও একই ধরনের ঘটনার দৃশ্য দেখা গেছে।

সেখানে এক ব্যক্তিকে মারধরের পর হাত ধরে টেনে বাজারের একটি রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

ওই ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তার কাছে যৌনাঙ্গ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছিল।

মোজাম্বিক ও কেনিয়াতেও ছড়িয়েছে সহিংসতা:

মোজাম্বিক ও কেনিয়ায় একই ধরনের হামলার ভিডিওও যাচাই করেছে বিবিসি ডিসইনফরমেশন ইউনিট। টিকটক ও ফেসবুকে এ ধরনের দলবদ্ধ সহিংসতার অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি কথিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা, মন্তব্য এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ঘটনার বর্ণনা হিসেবেও বহু ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিসি যাচাই করা দলবদ্ধ সহিংসতার অনেক ভিডিও এখনো অনলাইনে রয়েছে।

মেটার একজন মুখপাত্র বলেন, “আমাদের কাছে শেয়ার করা বিষয়বস্তুগুলো আমরা পর্যালোচনা করছি এবং যেগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি টিকটক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতা মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে তারা নিজেরা সত্যিই এসব দাবি বিশ্বাস করেন কি না, নাকি মূলত দর্শকসংখ্যা, প্রচার বা এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য এসব ছড়াচ্ছেন—তা অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট নয়।

গুজবের সঙ্গে তাবিজ-কবচের ব্যবসাও:

ভুয়া দাবিগুলোর পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে তথাকথিত তাবিজ-কবচের প্রচারণাও চলছে। এসব তাবিজ-কবচ যৌনাঙ্গ চুরি ঠেকাতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কৌতুক অভিনেতারাও হাস্যরসের মাধ্যমে এসব দাবিকে ব্যঙ্গ ও প্যারোডি করেছেন।

লেখক জুলিয়েন বনহোম বলেন, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুজব ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়িয়ে দেয়।

একই সঙ্গে এগুলো গুজবকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং একবার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তার লেখা ‘দ্য সেক্স থিভস: দ্য অ্যানথ্রোপোলজি অব আ রিউমার’ বইয়ে ‘যৌনাঙ্গ চোর’ নিয়ে গুজব কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ কেন এসব বিশ্বাস করে, তা আলোচনা করা হয়েছে।

বনহোমের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এসব দাবিকে মানুষের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে, কারণ ভিডিওগুলোতে ঘটনার তাৎক্ষণিকতার একটি অনুভূতি থাকে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি মোজাম্বিকে:

এই গুজবজনিত সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোজাম্বিক। দেশটির পুলিশ গত মে মাসে জানিয়েছিল, ছয় সপ্তাহের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন সরকারি চাকরিজীবীসহ ৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চাপো এসব গুজব এবং এর জেরে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এসব দাবি মিথ্যা। কারও শরীরের কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার পক্ষে সরকার কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণও পায়নি।

ইসলামী উগ্রপন্থার কারণে প্রায় এক দশক ধরে অস্থির ক্যাবো ডেলিগাডো প্রদেশে গত এপ্রিল মাসে দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা হয়।

গুজব মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ জনসচেতনতামূলক প্রচার শুরু করার পর ওই এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কয়েক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকার জানিয়েছে, এই আতঙ্কের একটি অংশ কোরো সিন্ড্রোম বা যৌনাঙ্গ কুঁকড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

কেনিয়ায় পাঁচজন নিহত:

সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে কেনিয়ার উপকূলীয় কোয়ালে ও মোম্বাসা কাউন্টিতে।

সেখানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। জুলাইয়ে এ ধরনের প্রথম ঘটনার পর মোম্বাসা কাউন্টির কমিশনার মোহাম্মদ নুর কিছু কনটেন্ট নির্মাতাকে ভিউ ও এনগেজমেন্ট বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব দাবি ছড়ানোর জন্য দায়ী করেন।

নুর বলেন, এ ধরনের ভুল তথ্য খুব সহজেই প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তিনি জানান, পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একই সঙ্গে এক পিতা-পুত্রসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মালাউইতেও প্রাণ গেল আটজনের:

প্রতিবেশী মালাউইতেও একই ধরনের দাবি জনতাকে সহিংস হামলায় উসকে দিয়েছিল। সেখানে আটজন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে তানজানিয়ার টুন্দুমায় মেকানিক বনিফাস এমগালা শারীরিকভাবে হামলার ধকল কাটিয়ে উঠলেও মানসিক ক্ষত এখনো তাজা।

নিজের বন্ধুর মৃত্যুর কথা মনে পড়লে এখনো গভীর কষ্ট অনুভব করেন তিনি।

এমগালা বলেন, “আমার বন্ধুর মৃত্যু যে এতটা অর্থহীনভাবে ঘটেছিল, সেই কথা মনে পড়লে এখনো গভীরভাবে কষ্ট পাই, কারণ তখন কী ঘটছিল তা আমি আজও জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই নিজেকে পাথরের আঘাতের মুখে পড়তে দেখবেন, আর শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনই হারাতে হবে?”

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)