আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থনপুষ্ট ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া।
এখন পর্যন্ত গণনা হওয়া ভোটের ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ পেয়েছে দলটি। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই তিন দিন ধরে দেশটিতে ভোটগ্রহণ চলে।
রোববার ২০ সেপ্টেম্বর শেষ হয় ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া।
এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া।
তবে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ২৫ সেপ্টেম্বরের আগে প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রথম ডুমা নির্বাচন:
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম স্টেট ডুমার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
পুতিন এই ভোটকে তার সরকারের সামরিক ও রাজনৈতিক নীতির প্রতি জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
ভোট শুরুর আগে পুতিন বলেছিলেন, ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হবে যে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের পাশে রয়েছে।
একই সঙ্গে রাশিয়ার জনগণের মধ্যে অভিন্ন মূল্যবোধ, ইতিহাসের স্মৃতি এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিরোধীদের অংশগ্রহণ সীমিত:
কঠোর রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত সীমিত।
রাশিয়ার একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকোকে কেন্দ্রীয় দলীয় তালিকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ বন্ধ করে দেয় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গত মাসে আদালত এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে এবারের স্টেট ডুমা নির্বাচনে পুতিন নিজে প্রার্থী হননি।
২০৩০ সালের আগে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশ নেওয়ার কথা নেই।
এর আগে ২০২১ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৪৫০ আসনের স্টেট ডুমায় ইউনাইটেড রাশিয়া ৩২৪টি আসনে জয় পেয়েছিল।
নির্বাচনের শেষ দিনে ড্রোন হামলা:
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকার সময়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের নির্বাচন।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের শেষ দিন রোববার মস্কো ও এর আশপাশের এলাকায় এক হাজারের বেশি ড্রোন পাঠায় ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।
হামলায় একটি বড় তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে ব্যাহত করার লক্ষ্যেই এসব হামলা পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছিল।
তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই দাবি নিশ্চিত করা হয়নি।
ভোটার উপস্থিতি নিয়েও ছিল নজর:
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের হারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।
রাজধানী মস্কোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ সীমিত থাকায় নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই অনুমেয় ছিল।
এ কারণে ভোটার উপস্থিতির হার এবং ৪৫০টি ডুমা আসন শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন দলের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হয়, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তার সরকারের নীতির প্রতি রুশ জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে দেশটির সরকার।
এসব নীতির মধ্যে ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানও রয়েছে। ফলে এবারের ভোট শুধু পার্লামেন্টের আসন বণ্টনের বিষয় নয়,
রাশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও সরকারের প্রতি জনসমর্থনের চিত্র বোঝার ক্ষেত্রেও এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিদেশে থাকা রুশ নাগরিকদের ভোট রাশিয়ার বাইরে অবস্থানরত নাগরিকদেরও তিন দিনব্যাপী এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ভারতে থাকা রুশ নাগরিকদের ভোট দেওয়ার জন্য দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই ও গোয়ায় মোট পাঁচটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।
নয়াদিল্লির ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্টেট ডুমা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।