নিজস্ব প্রতিবেদক নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার মাহবুবুর রহমানের চাকরির শুরু ১৯৮৭ সনে সে সময় ৫০০ শত টাকা বেতন স্কেল দিয়ে শুরু হয় পিয়নের চাকরি।
প্রমোশন পেয়ে আজ সে তহসিলদার।৪০ বছর চাকুরী করে কত বেতনই হয়েছে তার?
সংসার চালিয়ে ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা বাড়ি গাড়ি আসলো কোথা থেকে?
এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করছে এলাকাবাসী। বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায় ১৯৮৭ সনে ভূমি অফিসের পিয়ন হিসেবে তিনজন ব্যক্তি চাকরি পান তাদের মধ্যে একজন মাহবুবুর রহমান। দুইজন অবসরে গেলেও চাকরি করছেন মাহবুবুর রহমান।
নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিসের কয়েকজন তহবিলদারের সাথে কথা বলে জানা যায় মাহবুবুর রহমান এখনো চাকরিতে বহাল কিভাবে?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন ভোটার আইডিতে বয়স কম দেখিয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন মাহাবুব।
বিপুল সম্পদ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি চাকরির শুরুর দিকের বেতন কাঠামোর সঙ্গে বর্তমানে তার দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
জানাযায়, ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে ভূমি অফিসের পিয়ন পদের মূল বেতন স্কেল ছিল ৫০০ থেকে ৮৬০ টাকা।
তৎকালীন সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই বেতন নির্ধারিত হতো।
বর্তমানে ওই পদকে অফিস সহায়ক হিসেবে অভিহিত করা হয়। মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মচারীরা বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা পেতেন ১০০ টাকা।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘ চাকরিজীবনে মাহবুবুর রহমান সোনারগাঁয়ের কাচপুর পুরান বাজারের রংপুইরা গলিতে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন।
ভবনের পেছনে রয়েছে প্রায় ১০টি টিনশেড কক্ষ। এছাড়া তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, তার নামে ও বেনামে বিভিন্ন সম্পত্তি রয়েছে।
এমনকি সন্তানদের বিদেশে লেখাপড়ার পেছনেও বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং সরকারি চাকরি থেকে অর্জিত বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে তিনি সোনারগাঁ জামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত আছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরিজীবনে বিভিন্ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনের সময় নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায় ও জমির পর্চা (খসড়া) উত্তোলনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগে অভিযুক্ত ।
ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুল ত্রুটি দেখিয়ে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, তার কাছে কাজ করাতে গেলে সর্বনিম্ন ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।
টাকা না দিলে অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাব দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ভূমি অফিসে চাকরি করার সুবাদে মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
কিছুদিন আগেও তিনি সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন।
সেখানেও তার বিরুদ্ধে ভূমি-সংক্রান্ত কাজে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে সেবা গ্রহীতাদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তহসিলদার মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি ।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ সহকারী কমিশনার ভূমি এসিলেন্ড এর মোবাইলেও ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেব এদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব ও আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যাচাই-বাছাইয করে ।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে তার সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট জমি ও ভবনের মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।