নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দর আবারও কর্মচাঞ্চল্য হয়ে উঠেছে।
রোববার ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে বলে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা রোমেন মিত্র জানিয়েছেন।
এর আগে ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৮ দিন এ পথে আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল।
এ সময়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর পণ্য উঠানামা, খালাস ও পণ্যের শুল্কায়ন কাজকর্ম স্বাভাবিক ছিল।
সেই সাথে বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাক দেশে ফিরে গেছে।
তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক আদেশে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
সে হিসেবে শনিবার ২৪ অক্টোবর বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হলেও সার্ভারের সমস্যার কারনে সেটা বন্ধ হয়ে যায়।
উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর পচনশীল কিছু পণ্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিন ভারত থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ৬২ ট্রাক পণ্য আর বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৩৬ ট্রাক পণ্য বলে জানান কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা রোমেন মিত্র।
বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, রোববার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রোববার বন্দর ও কাস্টম হাউজের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় গোটা বন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
ছুটির কারণে সীমান্তের দুইপাশে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যজট। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ট্রাকজট কমতে শুরু করেছে।
রোববার বন্দর থেকে পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় কমতে শুরু করছে পণ্যজট।
বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের জন্য দুই হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক কাজে যোগদান করেছে। এছাড়া ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, শনিবার দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হলেও সার্ভারের সমস্যা কারনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রোববার আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কাজকর্ম পুরোদমে শুরু হয়েছে।
কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ছুটিতে গিয়েছিলেন সবাই কর্মস্থলে যোগদান করেছে।
ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস নিতে পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।