এস এম মিজান
২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দলের অংশগ্রহণ এবং ফিফার রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলার প্রাইজমানি ঘোষণার সুবাদে লাভবান হতে যাচ্ছে বাংলাদেশও।
রবিবার (১৮ জুলাই) বিশ্বমঞ্চ থেকে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার অর্জিত লভ্যাংশের একটি অংশ নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) পাবে, যা দেশের তৃণমূল ফুটবলের উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
এবারের বিশ্বকাপ আসরের জন্য ফিফার ঘোষিত রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ২০২২ সালের আসরের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।
নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে ফিফার অর্জিত আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়।
ফলে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর বিশ্বের অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নেও অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ফিফার অর্থ বণ্টন প্রসঙ্গে সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে আয় করে, তার একটি অংশ বাংলাদেশসহ সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
ফিফার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই হলো সদস্য দেশগুলোর ফুটবলের উন্নয়নে সহায়তা করা।
তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে অনেক দেশের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো এখন মনে করছে, তাদেরও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতাও আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আর্থিক সুবিধার চিত্রও বেশ বড়। ফিফার তথ্য মতে, প্রতিটি দল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য
শুরুতেই পাবে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। এরপর গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া ১৬টি দল পাবে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার করে।
অর্থাৎ শুরুতেই তাদের মোট আয় হবে ১২.৫ মিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ।
দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়া দলগুলো পাবে ১২ মিলিয়ন ডলার, আর শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর প্রাপ্তি হবে ১৬ মিলিয়ন ডলার করে।
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়া চার দল পাবে ২০ মিলিয়ন ডলার।এছাড়া চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় হওয়া দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার।
ফাইনালে পরাজিত দলকে দেওয়া হবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার। আর বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী দল পাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার।
প্রসঙ্গত, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে মাত্র ১৩টি দল নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ পথ চলায় ২০২৬ সালের ২৩তম আসরে এসে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আয়োজনে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দেশ অংশ নিয়েছে।