ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● আইএমএফের পূর্বাভাস, বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হতে পারে ● ভারত থেকে আসছে ২০০ রেলকোচ, প্রথম চালানে ১৮টি ● কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর ● আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ৩০০ কোটি টাকা....প্রতিমন্ত্রী ● শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দিনে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট বাতিল ● আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে....প্রসিকিউশন ● ইমরান সমর্থকদের ঠেকাতে কনটেইনারের দেয়াল,পাকিস্তানে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা ● বিশ্ব স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণস্বাস্থ্য হোমিওর র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ● ভারতের পুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চলছে.....মমতা ● দেশে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
বাংলাদেশ সমুদ্র অঞ্চলে ১৫টি স্থানে

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র জমার সময় বাড়ল ৪ মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : বুধবার, ১৪ অক্টোবর,২০২৬, ১১:৪৭ এ এম
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র জমার সময় বাড়ল ৪ মাস

বাংলাদেশ সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে পেট্রোবাংলা।

আগামী ৩০ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে।

বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

সংস্থাটির আশা, অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য ও উপাত্তের প্যাকেজ সহজলভ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর এই দরপত্রে অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়বে।

বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রের ১১টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।

দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ডলার। প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, আগ্রহী কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট কোনো ব্লক অথবা পুরো সমুদ্রাঞ্চলের জন্য দরপত্র জমা দিতে পারবে।

ইতোমধ্যে তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (টিপিএও), চীনের চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশনসহ (সিএনওওসি) তিনটি কোম্পানি দরপত্র কিনেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

ওই সময় মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিলসহ সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি পেট্রোবাংলার কাছ থেকে অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করে।

তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে কোম্পানিগুলো দরপত্র জমা দেয়নি।

ফলে বিডিং রাউন্ড-২০২৪ বাতিল করা হয়। ওই দরপত্রে অংশগ্রহণ না করার কারণ অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি কমিটি গঠন করে।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন দরপত্রের শর্তে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

এর মধ্যে গভীর সমুদ্র থেকে স্থলভাগ পর্যন্ত গ্যাস পরিবহনের পাইপলাইন ব্যয়, ওয়েল প্রফিট পেট্রোলিয়াম ফ্যাক্টর (ডব্লিউপিপিএফ) ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের সূত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দামের ১০ শতাংশের ভিত্তিতে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে গভীর সমুদ্রে তা ১১ শতাংশ এবং অগভীর সমুদ্রে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

এর আগে মডেল পিএসসি-২০১৯-এ অগভীর ও গভীর সমুদ্রের জন্য যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬ ডলার ও ৭ দশমিক ২৫ ডলার স্থির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছাকাছি সমুদ্রাঞ্চল থেকে মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উত্তোলন করছে।

বাংলাদেশে সমুদ্রাঞ্চলে অনুসন্ধানের জন্য এর আগে একাধিক আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হলেও সেগুলোর অনেকটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকেনি। ২০০৮ সালে ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ ব্লকের জন্য মার্কিন কোম্পানি কনোকোফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি হয়।

গ্যাসের দামসহ কয়েকটি শর্ত সংশোধনের প্রস্তাবে সমঝোতা না হওয়ায় ২০১৪ সালে কোম্পানিটি চলে যায়। ২০১২ সালের অফশোর বিডিং রাউন্ডের আওতায় ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেডের সঙ্গে এসএস-৪ ও এসএস-৯ ব্লকের চুক্তি হয়।

পরে ২০১৭ সালে এসএস-১২ ব্লকের জন্য পসকো দাইয়ুর সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা।

২০২০ সালে ওই ব্লক ছেড়ে চলে যায় কোম্পানিটি। ২০১৬ সালের পর ২০২৪ সালের আগে সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আর কোনো আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।

২০১৯ সালে উৎপাদন ও বণ্টন চুক্তি বা পিএসসি হালনাগাদ করা হলেও নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।

এদিকে দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আট শ্রেণির গ্রাহকের জন্য দৈনিক অনুমোদিত গ্যাসের লোড ৫ হাজার ৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

তবে প্রকৃত চাহিদা দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হয়।

দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা গ্যাসসহ মোট প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে।

ফলে দৈনিক ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। একসময় দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছালেও বর্তমানে তা কমে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে।

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনুসন্ধ অনুসন্ধানের দরপত্র জমার সময় বাড়ল ৪ মাস

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)