ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● আইএমএফের পূর্বাভাস, বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হতে পারে ● ভারত থেকে আসছে ২০০ রেলকোচ, প্রথম চালানে ১৮টি ● কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর ● আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ৩০০ কোটি টাকা....প্রতিমন্ত্রী ● শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দিনে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট বাতিল ● আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে....প্রসিকিউশন ● ইমরান সমর্থকদের ঠেকাতে কনটেইনারের দেয়াল,পাকিস্তানে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা ● বিশ্ব স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণস্বাস্থ্য হোমিওর র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ● ভারতের পুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চলছে.....মমতা ● দেশে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আইএমএফের পূর্বাভাস, বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হতে পারে

এস এম মিজান

প্রকাশ : বুধবার, ১৪ অক্টোবর,২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
আইএমএফের পূর্বাভাস, বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হতে পারে

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এই পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফের পূর্বাভাস বাস্তবে ঘটলে তা হবে ৩৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনা ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতি নিয়ে পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্ষিক সভা উপলক্ষে এটি প্রকাশ হয়েছে। এ বছর আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইএমএফের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কভিড মহামারির সময়ে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশনা ‘পঞ্চাশ বছরের জাতীয় পরিসংখ্যান’-এর তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরেও একই হারে প্রবৃদ্ধি হয়।

ওই সময় দেশে প্রলয়ঙ্করী বন্যা হয়। আইএমএফ মনে করছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। ওই অনুমান সত্যি হলে তা হবে ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি।

বিবিএসের বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে গড়ে ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়।

এরপর কোনো কোনো মাসে এর চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হলেও তা এক বছরের গড় নয়।

গত এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসে আইএমএফ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল।

গত জুলাইয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

কয়েকদিন আগে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। আর গত মাসে এডিবির পূর্বাভাসে ৪ শতাংশের কথা বলা হয়।

আইএমএফ যখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের একটু বেশি ধরেছে, তখন একই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ এবং ভুটানের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ে আইএমএফের নতুন পূর্বাভাসও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

গত এপ্রিলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারা ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী পূর্বাভাস দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিবিএসের হিসাবে, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বার্ষিক সম্মেলনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার তিনি আইএমএফের নিরাপত্তা পরিচালক উরজিত প্যাটেল এবং বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়ের্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আইএমএফের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস এবং সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার।

সংস্থাগুলো নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না।

এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে।

আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে– এটাই মূল কথা।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)