নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন ও আনিসুল হকসহ আলোচিত কয়েকটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠিত হওয়ার পর দুই ট্রাইব্যুনাল সাতটি মামলার রায় দিয়েছেন।
এসব মামলায় ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন পর্যায়ে ৭০টি মামলার কার্যক্রম চলছে।
এসব মামলায় শত শত ব্যক্তি আসামি। তিনি জানান, তদন্ত সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ৭০০টি অভিযোগ পেয়েছে প্রসিকিউশন।
এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
মামলাগুলোর অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর পরবর্তী কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করবেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ট্রাইব্যুনালের অবকাঠামো ও কার্যক্রম নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে।
এ কারণে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে। তবে একটি মামলার বিচার শেষ করতে গড়ে সাত থেকে আট মাস সময় লাগে।
মামলাভেদে তদন্তের সময়ও ভিন্ন হয়। গ্রেপ্তার কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়নি।
অভিযোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন পাওয়ার পর তা দাখিল করা হবে।
বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে গাজী এমএইচ তামিম বলেন, প্রসিকিউশন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করছে।
একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ ও সেগুলো পর্যালোচনা করছেন।
তবে এ তদন্ত শেষ করতে কত সময় লাগবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।