ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran|| Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

‘নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিন,শিক্ষকদের কড়া বার্তা...মন্ত্রী এখন ক্ষমতা আছে গ্রেফতার দেখান। আমরাও শেষ দেখে নেবো রাশিয়া-কানাডা থেকে ৭৫ হাজার টন সার কিনছে সরকার সরকারিভাবে জর্ডানে ১৩১ নারী গার্মেন্টস কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন নতুন পোশাকে বাংলাদেশ পুলিশ মেসি আরও গোল করবেন, কিন্তু আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ ফাইনাল: এমবাপ্পে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে চায় কেপ ভার্দের...প্রেসিডেন্ট নরওয়েকে কখনোই হারাতে পারেনি ব্রাজিল, ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ২ ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরা
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফজলুল হকের আবির্ভাব

আ জা ডেক্স

প্রকাশ : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ১১:২৫ পিএম
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফজলুল হকের আবির্ভাব

পর্ব-১।। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে আবুল কাশেম ফজলুল হক বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য হন। তখন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।

তারপর থেকে একটানা ভারত বিভাগের সময় পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের আইনসভার সদস্য ছিলেন।

১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের ঢাকা বিভাগীয় কেন্দ্রের শূন্যপদে উপনির্বাচনে ফজলুল হকের সঙ্গে রায়বাহাদুর কুমার মহেন্দ্রনাথ মিত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। এই নির্বাচন কেন্দ্রের বেশির ভাগ ভোটারই ছিলেন হিন্দু।

তখন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার ছিল না। খাজনা ও সেস প্রদানের সামর্থ্য যাঁদের ছিল তাঁরাই ছিলেন ভোটার। বঙ্গ-ভঙ্গ রহিত হবার পরে হিন্দু-মুসলমানের সম্পর্কে যথেষ্ট তিক্ততা ছিল।

তাই অন্য কোনো মুসলমান নেতা বর্ণ-হিন্দুদের প্রাধান্য আছে এমন একটি কেন্দ্রে নির্বাচন প্রার্থী হতে সাহসী হননি। ফজলুল হক এই নির্বাচন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন।

স্বদেশি যুগের প্রখ্যাত নেতা অশ্বিনী কুমার দত্ত তাঁকে সমর্থন করেন। ফজলুল হকের পিতা মৌলবী মহম্মদ ওয়াজেদকে অশ্বিনী কুমার দত্ত খুবই শ্রদ্ধা করতেন এবং ফজলুল হককে তিনি পুত্রতুল্য স্নেহ করতেন।

তাই অশ্বিনী কুমার দত্তের স্নেহধন্য ফজলুল হকের পক্ষে এক জটিল সাম্প্রদায়িক পরিবেশের মধ্যেও অগ্রসর হওয়া কষ্টকর হয়নি।

ফজলুল হকের অসাধারণ বাগ্মিতা ও আন্তরিকতায় নির্বাচকমণ্ডলী স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়। তিনি যেসব ভাষণ দেন তাতে একটি পরিচ্ছন্ন বাঙালি মনের পরিচয় পাওয়া যায়।

তিনি ঘোষণা করেন, তিনি বাঙালির উন্নতি ও কল্যাণের জন্য সংগ্রাম করবেন। বাঙালির সম্মান ও আত্মমর্যাদার কথা বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরায় গোটা নির্বাচনী পরিবেশ তাঁর অনুকূলে যায়।

তাই মুসলমান হয়েও বর্ণ-হিন্দুদের ভোটে বর্ণ-হিন্দু প্রার্থীকে তিনি পরাজিত করতে সক্ষম হন। এইভাবেই বাঙালি ফজলুল হকের রাজনৈতিক মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দেই ফজলুল হক বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লিগের সম্পাদক হন। স্যার সলিমুল্লা ছিলেন সভাপতি।

তাছাড়া ফজলুল হক সারা ভারত মুসলিম লিগের সহ-সম্পাদকও ছিলেন। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে স্যার সলিমুল্লার মৃত্যুর পরে তাঁকেই বাংলাদেশের মুসলিম লিগের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়।

এই সময়ে তিনি জাতীয় কংগ্রেসেও যোগদান করেন এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বপদে আসীন হন। একই সঙ্গে তিনি লিগ ও কংগ্রেসের মধ্যে থেকে দেশের সেবা করেন। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সারা ভারত মুসলিম লিগের দিল্লি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

এখানে তিনি সভাপতির ভাষণে ভারতের দুঃখ বেদনার এক করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি রমেশচন্দ্র দত্তের গ্রন্থ সমূহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন।

তিনি বিশ্বাস করেন, ব্রিটিশ শাসনের ফলেই ভারত এক দরিদ্র দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি এই সময়ে রমেশচন্দ্র দত্তের চিন্তাধারার দ্বারা খুবই অনুপ্রাণিত হন।

ফজলুল হক তাঁর ভাষণে বলেন: I believe we are now in a position to offer a complete answer to Lord George Hamilton, on the basis of the test laid down by him.

We have seen that India is now chronically famine stricken and that these famines are really due to the abject poverty of the Indian people. We have also seen that this poverty has been directly due to the fact that under British Rule the sources of national wealth in India been gradually narrowed and that unjust charges on the Indian people have drained away all available wealth in the country.

India therefore has materially retrograded in material prosperity under British Rule, in consequence of the policy hitherto pursued by our British Rulers…In dealing with the present economic condition of the country,

I have not said anything new, nor have I been able to put forward any novel arguments in support of the proposition that the present system of Indian Administration has been productive of the most baneful results.

It has been said of the ancient Roman Empire that it sucked the orange off its provinces dry and left only the rind to its subjects.

The Economic History of India shows that a similar process has unfortunately been going on in this country under British Rule and our Rulers have not only sucked the Indian orange juiceless, but the chances are that if they are not pulled up in time, even the rind will not be left over for the Indian people.

অনুবাদ: আমি মনে করি, লর্ড জর্জ হ্যামিলটন যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিলেন, তার ভিত্তিতে এখন আমরা তাঁকে একটি পূর্ণাঙ্গ উত্তর দিতে সক্ষম।

আমরা দেখেছি যে ভারত বর্তমানে স্থায়ীভাবে দুর্ভিক্ষপীড়িত, এবং এই দুর্ভিক্ষগুলোর মূল কারণ হলো ভারতীয় জনগণের চরম দারিদ্র্য। আমরা এটাও দেখেছি যে এই দারিদ্র্য সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের ফল।

ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতে জাতীয় সম্পদের উৎসগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত করা হয়েছে এবং ভারতীয় জনগণের ওপর আরোপিত অন্যায্য খাজনা ও ব্যয় দেশের সব উপলব্ধ সম্পদ নিঃশেষ করে দিয়েছে।

ফলে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারত ভৌত সমৃদ্ধির দিক থেকে স্পষ্টভাবে পশ্চাদপসরণ করেছে—এটি আমাদের ব্রিটিশ শাসকদের এতদিন অনুসৃত নীতিরই পরিণতি।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গে আমি নতুন কিছু বলিনি, কিংবা এই দাবির পক্ষে কোনো অভিনব যুক্তিও উপস্থাপন করতে পারিনি যে ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত ক্ষতিকর ফল উৎপন্ন করেছে।

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্য সম্পর্কে বলা হতো যে তারা তাদের প্রদেশগুলো থেকে কমলার সমস্ত রস নিংড়ে নিত এবং প্রজাদের জন্য কেবল খোসাটুকু রেখে দিত।

ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস দেখায় যে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে এই দেশেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই প্রক্রিয়া চলেছে। আমাদের শাসকরা শুধু ভারতীয় কমলাকে রসহীনই করেননি, বরং আশঙ্কা হচ্ছে সময়মতো যদি তাদের থামানো না যায়, তবে ভারতীয় জনগণের জন্য খোসাটুকুও আর অবশিষ্ট থাকবে না।

সারা ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী সেশনে ১৯১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর প্রেসিডেন্টের ভাষণে ফজলুল হক এই বক্তব্য রাখেন।

সূত্র: অমলেন্দু দে, পাকিস্তান প্রস্তাব ও ফজলুল হক, ২০০৯ সংস্করণ, পৃ: ১৭-১৮ ছবি: শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে দেখা যাচ্ছে ১৯৩৭ সালে তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও সহকর্মীদের আয়োজিত এক সংবর্ধনায় পুরাতন ঢাকায়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)