আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
ভারতে থাকার বৈধতা নিয়ে আইনি জটিলতার মধ্যে নতুন করে চাপে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান।
দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর এবার তাঁর ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) মর্যাদা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে দ্বিতীয় নোটিশ দিয়েছে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) পাঠানো এ নোটিশের জবাব দিতে অভিনেতাকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর ইমরানকে আটক করা হয়।
ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে আয়োজিত ওই কর্মসূচি থেকে পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক ইমরানকে এরপর ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেয় মুম্বাই পুলিশ।
ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে শনিবার মুম্বাই হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। আবেদনে অভিনেতার অভিযোগ, দেশ ছাড়ার নির্দেশের পক্ষে কোনো কারণ জানানো হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
নতুন নোটিশে ক্রান্তি ময়দানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে ইমরানের উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করেছে এফআরআরও।
দপ্তরটির দাবি, কর্মসূচিটির জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে ইমরানসহ অন্য বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
তবে নোটিশে এফআরআরও স্বীকার করেছে, শুধু এফআইআর দায়ের হওয়া বা কাউকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়।
এসব ঘটনা নিজে থেকেই ওসিআই মর্যাদা বাতিলের স্বয়ংক্রিয় ভিত্তিও নয়। শুধু বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণেও কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ওসিআই মর্যাদা বাতিলের মতো পদক্ষেপের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হয়।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকবিষয়ক আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিককে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
প্রথম নোটিশে ইমরানকে ২৮ অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছিল।
দ্বিতীয় নোটিশের জবাব এবং হাইকোর্টে তাঁর আবেদনের পরবর্তী অগ্রগতির ওপর এখন নজর থাকবে।