নিজস্ব প্রতিবেদক জামালপুর
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে সরকারি ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় জন প্রতিনিধির কাছ থেকে সরকারি এই বিশেষ কার্ড সরাসরি বিএনপি নেতাদের বুঝে নেওয়ার ছবি ও ভিডিও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক ও জনরোষ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে সংগৃহীত সমস্ত কার্ড ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছেই ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত মোট ৪ হাজার ২৪টি ভিজিএফ কার্ড স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেন।
তবে এই সরকারি সুবিধা হস্তান্তরের স্থিরচিত্র ও ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
তীব্র এই বিতর্কের মুখে বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করে জানান যে, চেয়ারম্যান কার্ডগুলো হস্তান্তরের পরপরই তারা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন।
যেহেতু দলীয়ভাবে এমন কোনো কার্ড নেওয়ার নির্দেশনা ছিল না, তাই তারা বিতর্ক এড়াতে কার্ডগুলো চেয়ারম্যানের কাছেই রেখে চলে আসেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, স্থানীয় বিএনপির কেউ কোনো ভিজিএফ কার্ড গ্রহণ করেনি।
একই সুর প্রতিধ্বনিত করে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দলীয় নির্দেশনার বাইরে তাদের কোনো কিছু করার এখতিয়ার নেই।
সরকারি সম্পদ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বণ্টনচেষ্টার এই গুরুতর ও বিতর্কিত বিষয়ে বক্তব্য জানতে বগারচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এই নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে সাফ রাজি হননি।
তবে পুরো বিষয়টিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কথা জানিয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর কার্ডগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে।
তিনি এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে আশ্বস্ত করে আরও জানান, সম্পূর্ণ সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে এবং প্রকৃত দুস্থ ও উপকারভোগীদের সঠিক তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই এই ভিজিএফ কার্ডগুলো বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।