নিজস্ব প্রতিবেদক ভোলা
ভোলা লালমোহন উপজেলায় সরকারি বেতন-ভাতাহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা গুলোকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মৌলভীর বিরুদ্ধে।
একটি দাখিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত এই সহকারী মৌলভী ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি, ভুয়া সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার এবং জাতীয়করণের নামে সাধারণ শিক্ষকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন উপজেলায় বর্তমানে এনটিআরসিএ ও ইনকোডভুক্ত বৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১১৯টি।
তবে এর বাইরে সম্পূর্ণ নামে-বেনামে আরও ১৮১টি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন নুরুল ইসলাম মৌলভী, যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল নিয়োগ বাণিজ্য।
উপজেলার একাধিক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব মাদ্রাসা জাতীয়করণ (সরকারি) করা হবে—এমন প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন নুরুল ইসলাম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানভেদে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন নুরুল ইসলাম মৌলভী।
অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে এক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের কথা বলে টাকা নেওয়া হলেও, পরে অন্য প্রতিষ্ঠানে নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হতো।
উপজেলার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র নুরুল ইসলাম নিজের জিম্মায় রাখতেন।
শিক্ষক নিয়োগ বৈধ দেখাতে তিনি নিজেই সভাপতি, প্রধান শিক্ষক এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষা অফিসারের ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর তৈরি করে জালিয়াতি করতেন।
নিয়োগ বাণিজ্য ছাড়াও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের আন্দোলনের খরচ জোগানোর নামে সাধারণ শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা তুলে তা আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ গা ঢাকা দিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম মৌলভী।
তবে সম্প্রতি ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ হতে পারে—এমন খবর পেয়ে তিনি আবার প্রকাশ্যে এসেছেন।
নিজেকে রক্ষা করতে এবং পূর্বের প্রভাব বজায় রাখতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন এবং পুনরায় শিক্ষা অফিস চষে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ফলে ওইসব ভুয়া ও জালিয়াতি করা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মনে এখন চাকরি নিয়ে তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে এই চক্রের অন্যতম সহযোগী হিসেবে ইব্রাহিম খলিল নামে আরেক মাদ্রাসার সুপারের নাম উঠে এসেছে।
বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত এই সুপার নিজের অপকর্ম ঢাকতে ও গ্রেপ্তার এড়াতে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে নুরুল ইসলাম মৌলভীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষকদের সর্বস্বান্ত করা নুরুল ইসলাম মৌলভীর যাবতীয় কর্মকাণ্ড তদন্তপূর্বক দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন উপজেলার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহল।