Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান....সোহেল তাজ শেখ হাসিনা ফিরলে বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত....আসিফ মাহমুদ শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফর করবেন না....তারেক রহমান ভারত সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’যুক্তরাজ্যের নতুন নাম....নেতানিয়াহুর কটাক্ষ ৯০-এর আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক ছিলেন খালেদা জিয়া...রিজভী দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার ৮২ তম জম্মদিনে লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন শত শত শিল্পকারখানা বন্ধ সিদ্ধিরগঞ্জে ডিপিডিসি’র বিদ্যুৎ চুরি করে কোটিপতি প্রকৌশলী জাহাঙ্গির
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
ভারতের "দ্য ট্রিবিউন সাক্ষাৎকারে

শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফর করবেন না....তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট,২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফর করবেন না....তারেক রহমান

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যার্পণ না করা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না—এমন একটি শর্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ১০ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ওই বৈঠকেই শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের বিষয়টি তার ভারত সফরের সঙ্গে যুক্ত করে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ের পর ঢাকার অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

ওই ব্রিফিংয়ে হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বক্তব্য দেন। সেদিন হাসিনা বলেন, ‘যদি তাকে হত্যাও করা হয়’ তবুও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন।

দ্য ট্রিবিউন দাবি করেছে, হাসিনার ওই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে।

তাদের পক্ষ থেকে এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছে যে, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনাও ‘ফিফটি-ফিফটি’ হয়ে যেতে পারে।

শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল ব্রিফিংয়ের পর ভারত সরকার অবশ্য বিষয়টি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ওই ব্রিফিং আয়োজনের সঙ্গে ভারতের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

তবে একটি কূটনৈতিক সূত্র দ্য ট্রিবিউনকে বলেছে, ভারত সরকার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করলেও এরই মধ্যে দুই দেশের সম্পর্কে যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরই প্রতিফলন দেখা যায় ১০ আগস্ট ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফরে।

ওই সফরে তিনি প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামসুল আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন।

একই দিনে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন।

সেখানে তাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের ওপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নির্ভর করছে।

বৈঠকে দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও ভালো করার ক্ষেত্রে ব্যাপক সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারত সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, তারেক রহমান নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের কাছে এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

পরে তিনি দিল্লিতে ফিরে গিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবহিত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ট্রিবিউন বলেছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ সম্পর্ক উন্নয়নে নিজে কাজ করছেন। ফলে ঢাকার এমন কঠোর অবস্থানে ভারত বিস্মিত হয়েছে।

তবে সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, বর্তমানে দুই দেশই নিজেদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করার চেষ্টা করছে।

কারণ দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশই পরস্পরকে প্রয়োজন বলে মনে করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।

ভারত ওই সফরগুলোর ওপরও ঘনিষ্ঠ নজর রেখেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান কী:

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কেও দ্য ট্রিবিউন কয়েকটি সূত্রের বক্তব্য তুলে ধরেছে।

একটি কূটনৈতিক সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছে, ভারত হাসিনাকে ত্যাগ করতে পারবে না। কারণ তিনি ভারতের পুরোনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা।

পাশাপাশি জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে আশ্রয় নেওয়ায় ভারত তাকে ছেড়ে দেবে না বলেও ওই সূত্রের দাবি।

তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হাসিনার সাম্প্রতিক প্রেস ব্রিফিং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উন্নত হতে থাকা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ওই সূত্রটি বলেছেন, “পূর্ব সীমান্তে ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা অত্যন্ত জরুরি, আর কেবল একটি বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশই তা রক্ষা করতে পারবে।” সূত্র: দ্য ট্রিবিউন।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)