Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান....প্রধানমন্ত্রীর বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক....রাষ্ট্রপতি কুবির নজরুল হলে মারামারি, বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিককে মারধরের পর যুবদল নেতার এ-হুমকি সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি হুসেইন মোহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার সুখী দেশের তালিকায় ফিলিস্তিনের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা সিদ্ধিরগঞ্জে চিটাগাংরোড রেন্ট-এ-কার মালিক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মহেশখালী চ্যানেলে নিউজিল্যান্ডের একই পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে নৌকাডুবি
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
তোমরা লিখবা, আমরা পেটাবো

শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিককে মারধরের পর যুবদল নেতার এ-হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক শরীয়তপুর

প্রকাশ : বুধবার, ২৬ আগস্ট,২০২৬, ০৬:২৮ এ এম
শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিককে মারধরের পর যুবদল নেতার এ-হুমকি

‘তোমরা লিখবা, আমরা পেটাবো’ ৩ সাংবাদিককে পেটানোর এমন হুমকির অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে তার নেতৃত্বে থাকা সমর্থকদের বিরুদ্ধ হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার, মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা এবং দ্য ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘শরীয়তপুরের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে বিএনপির একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

কর্মসূচির ছবি, ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করতে সেখানে যান সাংবাদিকরা।

অভিযোগ, এ সময় আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন।

জাহিদ হাসানের অভিযোগ, বিক্ষোভ মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় আরিফ মোল্লা ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করেন এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে স্থানীয় কয়েকজন আইনজীবী তাকে উদ্ধার করেন। বিধান মজুমদার বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচতলা থেকে দোতলায় ওঠার পথে আরিফ মোল্লা ও তার সহযোগীরা তাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মেরে ভবন থেকে বের করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে আরিফুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘আরও তো মারব, শুধু এখন না।

আমার বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ দিতে পারে। অনেকে লিস্টে আছে, সন্ধ্যার মধ্যে আরও খবর পেয়ে যাবা।

তোমরা লিখবা আর আমরা পিটামু।’ এর আগে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির একটি পক্ষের বিরোধ তৈরি হয়।

মঙ্গলবারের সমাবেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তাদের দাবি, সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিস্টদের একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের গাড়ি ঘিরে ‘মব’ সৃষ্টি করেছে এবং জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবি তুলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের চেষ্টা করেছে।

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করে একটি ফ্যাসিবাদী পক্ষের আচরণের প্রতিবাদেই তারা সমাবেশ করেছেন।

তবে সেখানে কোনো সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা তার জানা নেই। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভাঙা নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই একটি কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং যুবদল নেতার প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

প্রেসক্লাবের জমি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয় সম্প্রতি। সাংবাদিকদের দাবি, ১৯৯৮ সালে জেলা প্রশাসন প্রেসক্লাবের নামে ১৪ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেয়।

পরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি ওই জমি পার্কের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন এবং প্রেসক্লাবের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, নতুন জায়গা হস্তান্তরের আগেই শনিবার রাতে প্রেসক্লাবের তিন দিকের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের সভাপতিকে ঘটনার জন্য দায়ী করে তাদের ছবিসহ ফেসবুকে পোস্ট করেন সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল।

এর পরদিন তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে প্রেসক্লাবের সভাপতির ছেলে ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

আর মঙ্গলবার তিন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং যুবদল নেতার প্রকাশ্য হুমকির বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)