এস এম মিজান
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর চিত্র তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনক। উচ্চ আয়ের কয়েকটি দেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও অধিকাংশ মুসলিম দেশ যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার কারণে তালিকার নিচের দিকেই রয়েছে।
সোমবার(২৪ আগষ্ট) পরিসংখ্যানের আড়ালে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা স্বস্তিদায়ক ও সন্তোষজনক—বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনের ফলাফল সবচেয়ে বেশি সুখী ও সুস্থ রাখে তার সুন্দর ও গভীর সামাজিক সম্পর্কগুলো।
মানুষের নিজের জীবনের সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি হয় ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট।
গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোলের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি কাল্পনিক সিঁড়ির কথা ভাবতে বলা হয়।
শূন্য ধাপকে জীবনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা এবং ১০-কে সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো জীবন ধরে তারা বর্তমানে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করেন।
সাধারণত তিন বছরের তথ্যের গড় ব্যবহার করে দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
সামাজিক নেটওয়ার্কিং গ্রুপে যোগ দেওয়া এরপর গবেষকরা ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সঙ্গে জীবনমূল্যায়নের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন।
এগুলো হলো মাথাপিছু আয়, সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবন প্রত্যাশা, নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, উদারতা এবং দুর্নীতি থেকে মুক্তির ধারণা।
এই ছয়টি উপাদান সরাসরি র্যাংকিং তৈরির উপাদান নয়; বরং কেন এক দেশের মানুষ অন্য দেশের তুলনায় নিজেদের জীবনকে ভালো বা খারাপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন,।
তার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেয়।২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে শীর্ষ ২০-এ কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২১, সৌদি আরব ২২, কুয়েত ৩০ এবং কাজাখস্তান ৪৩ নম্বরে অবস্থান করছে। শীর্ষ ৫০ দেশের মধ্যে মাত্র চারটি মুসলিম দেশ রয়েছে।
আর শীর্ষ ১০০টি দেশের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৮টি। আর পুরো তালিকায় রয়েছে মাত্র ৩৭টি।
এর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১২৭ নম্বর স্থানে। ভৌগোলিকম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা গবেষকরা বলছেন, তালিকায় পিছিয়ে থাকার অর্থ এই নয় যে, মুসলিম সমাজ বা ইসলাম সুখের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বরং সূচকে পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজতে গেলে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিতে হয়।
মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।
ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত।
গবেষকদের মতে, সুখের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা কঠিন।
বরং মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর, সমাজে পারস্পরিক আস্থা কতটা এবং মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা আশাবাদী—এসব প্রশ্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিকআপডেট ও খবর পর্যালোচনা করা বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন-২০২৬ অনুযায়ী, ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম।
জরিপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের এই অবস্থানকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে করছেন গবেষকরা।
উদ্বেগের বিষয় হলো, সুখের সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান এবং দীর্ঘদিনের নানা সংকটে জর্জরিত সোমালিয়াও।