আ জা ডেক্স নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর জেলা কার্যালয়ে যেন ঘুষ ছাড়া নড়ে না কোনো ফাইল।
লাইসেন্স সংক্রান্ত সেবাসহ যেকোনো কাজের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয় সেবা গ্রহীতাদের।
যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে দালালচক্রর দৌরাত্ব ও গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অনিয়মে দিশেহারা ভুক্তভোগিরা।
ওই কার্যালয়ের দূর্নীতিবাজ কর্তারা অবৈধভাবে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীরা জানান, বিআরটির কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কিছুই বোঝেন না তারা।
কাগজপত্র জমা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপে দালালদের মাধ্যমে হয়রানিসহ অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের অভিযোগ, ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রাহকদের।
লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড (মাঠ) টেস্ট পরীক্ষায় পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সরাসরি ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার সিরিয়াল পেতেও দিতে হয় বাড়তি টাকা।
জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য তিন হাজার ২৪ টাকা ও শিক্ষানবিশদের ক্ষেত্রে ৮৫০ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
তবে দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে লাইসেন্স পেতে গুনতে হয় অতিরিক্ত আরো কয়েক হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী শামসুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না।
তাদের দাবি করা ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না করে তালবাহানা শুরু করে।
আব্দুল আউয়াল নামে এক ভুক্তভোগী জানান, ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান ও মোটরযান পরিদর্শক ওসমানগনি ও সাখওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।
২০২৫ সালের ০৭ মে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ দুদক কার্যালয় সহকারী পরিচালক তুষার আহমেদের নের্তৃত্বে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।
অভিযানকালে দুদক টিম ছদ্মবেশে সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে একজনকে দালাল সন্দেহে আটক করে বিআরটিএ, নারায়ণগঞ্জের অফিস প্রধানের কক্ষে নিয়ে যায়।
এসময় তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিকট কোনো সন্দেহজনক কাগজপত্র না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে সতর্ক করে।
পরবর্তীকালে বিআরটিএ অফিসে বিনা প্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করতে নিষেধ করে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে তদারকি নিশ্চিতকরণ এবং সেবা প্রদানে সিটিজেন চার্টার যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানকে দুদক টিম কর্তৃক পরামর্শ প্রদান করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ সহকারি পরিচালক-মাহবুবুর রহমান জানান, আমাদের কার্যালয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কোনো অনিয়ম ও দুর্ণীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি আবেদন করার পর কাগজপত্র সঠিক থাকলে খুব সহজেই লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু যথা সময়ে পেয়ে যান ওই ব্যক্তি।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির কালের কণ্ঠকে জানান, ওই কার্যালয়ে বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে সেটাও খতিয়ে দেখে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র : কালের কন্ঠ।