ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

আড়াই মাসের মাথায় সোনারগাঁ থানার ওসির বদলি চীনা শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ ছাড়াবে ১ বিলিয়ন ডলার....অর্থমন্ত্রী আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে ফের সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি...ডোনাল ট্রাম্পের নতুন কুঁড়ির শিশুদের সংবাদ লিড করার আহ্বান....প্রধানমন্ত্রীর ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোট নয়, ফলাফল চুরি হয়েছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেলেন,আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার চিপস ও পপকর্নে মরণব্যাধি ক্যানসারের ঝুঁকি স্বাস্থ্য গবেষণায় নবনির্বাচিত নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির কমিটি ও মীম শরৎ গ্রুপকে ফুলেল শুভেচ্ছা
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ, বেরোবিতে হবে বিশেষ কর্নার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই,২০২৬, ০৫:৫৩ এ এম
আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ, বেরোবিতে হবে বিশেষ কর্নার

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তাঁর নামে একটি বিশেষ কর্নার প্রতিষ্ঠা বা পৃথক স্থানে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (০৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদার ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, "এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।"

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

এ ক্ষেত্রে ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ করে ঐ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।

তিনি বলেন, শুধু বই সংরক্ষণ করলেই হবে না, দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভসেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তাঁর সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন।

বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তাঁর ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংরক্ষণের অভাবে তাঁর সংগ্রহের বহু দুর্লভ বই একসময় ভাঙারির দোকানে বিক্রি হয়ে যায়।

এ ধরনের ঘটনা দেশের জ্ঞান-ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন।

সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চান।

আবদুল হাই শিকদার আরও জানান, তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে এ অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার প্রতিষ্ঠা কিংবা পৃথক স্থানে বইগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সময় আবদুল হাই শিকদার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল গবেষণা জোরদারে 'নজরুল সেন্টার' প্রতিষ্ঠা এবং 'নজরুল অধ্যাপক' পদ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেন।

পাশাপাশি 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জবাবে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)