আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও তা ফলপ্রসূ না হলে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করবে না ওয়াশিংটন।
সোমবার ২৭ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সুযোগ দিতে ইরানে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
বর্তমানে আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় নিশ্চিত করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করা।
মূল আলোচনা ইরান ও ওমানের মধ্যে হলেও কাতার, পাকিস্তান ও মিসর মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।
পাশাপাশি ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও এ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "আমরা ইরানের সঙ্গে বেশ গভীর আলোচনায় রয়েছি। যদি এই আলোচনা কোনও কাজে না আসে, তবে আমরা আবারও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের দিকে ফিরে যাব।"
আলোচনার জন্য কতদিন সময় দেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না। হয় এটি খুব দ্রুত সমাধান হবে, না হয় মোটেও হবে না।"
হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে তিনি শুক্রবার সামরিক অভিযান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, "ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করা সব মানুষ আমাকে বলেছিল, হামলা চালাবেন না।"
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বিশ্বাস ইরানও একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের "কিছু পাওয়ারও নেই, হারানোরও কিছু নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
এদিকে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প।
সম্ভাব্য ওই বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে কথা বলব যে, আমি যদি প্রেসিডেন্ট না হতাম, তবে এতদিনেই ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র চলে আসত এবং ইসরায়েল ধ্বংস হয়ে যেত।"