আ জা ডেক্স
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপের মধ্যে- শ্রেষ্ঠ শিল্প গ্রুপ- ইসলাম গ্রুপের- প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান- বাংলাদেশের আবাসন জগতের পথপ্রদর্শক- ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপূর্ত দপ্তরে কেরানী পদে চাকরি দিয়ে জীবন শুরু করা- পরবর্তীতে ঠিকাদারি ব্যবসায় প্রবেশ করে নিজের যোগ্যতা- মেধা- ও নিরলস পরিশ্রমের সফলতায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ীর তালিকায় শীর্ষস্থান ছিলেন ৯০ দশক পর্যন্ত- বর্তমানেও অন্যতম।
দানবীর- শিক্ষানুরাগী জন্মসূত্রে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের- দারিদ্রতার- সাথে যুদ্ধ করে বড় হওয়া দরিদ্র পরিবারের সন্তান- এসএসসি পাশ করে দারিদ্রতার কারণে কেরানি পদে সরকারি চাকরিতে যোগদান করা থেকে কর্মজীবন শুরু - পরবর্তীতে পাকিস্তান- বাংলাদেশ- মধ্যপ্রাচ্য- সহ ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী- জহিরুল ইসলাম এর সাথে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়িটির সম্পর্ক - ১৯৫৭ সালে ২০০০ টাকা জামানত সহ বঙ্গবন্ধুর আবেদনের প্রেক্ষিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে আবাসিক প্লট বরাদ্দ পাওয়া পর থেকে ১৯৬১ সালে তিন তলা- দৃষ্টিনন্দ এই বাড়িটি কমপ্লিট করে- বঙ্গবন্ধুর বসবার শুরুর করার পর তিনতলায় ছাদের উপরে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় কবুতরের খোপ বানানো পর্যন্ত জহিরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত- ঐতিহাসিক মধুর সম্পর্ক রয়েছে!
এমনকি ধানমন্ডির লেকের পারে এক বিঘা আয়তনের ৩২ নাম্বার প্লটটি বঙ্গবন্ধুকে পছন্দ করে দিয়েছিলেন- জহিরুল ইসলাম! বাড়িটির নকশা- ইট কাঠ- রড সিমেন্ট ও মোজাইক সহ বাড়ি নির্মাণের যাবতীয় নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করা সহ নিজের তদারকিতে ঠিকাদার ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ জন হিসাবে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন জহুরুল ইসলাম! বঙ্গবন্ধু জহিরুল ইসলামকে- হাজী সাহেব- বলে সম্বোধন করতেন! ১৯৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার সেগুনবাগিচার বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী থাকাকালীন বরাদ্দকৃত বাসা থেকে পরিবারকে উচ্ছেদ করে দিলে- ঢাকা শহরে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে রাজনৈতিক পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার- কারণে ভয়ে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া দিতে চাচ্ছিল না কেউ!
সেই সময় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার- বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সার্বক্ষণিক সাহায্যকারী- জজ সাহেবের বাড়ি- নামে সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের বাসা ভাড়ার গ্যারান্টার হয়েছিলেন- জহিরুল ইসলাম!
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলকে জহিরুল ইসলাম আর্থিক সহযোগিতা করেছেন- কয়েক দশক- যা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ওপেন সিক্রেট বিষয়!
ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়িটি করার সময়- পাকিস্তান হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের কাছ থেকে ৬০০০ টাকা লোন নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, যার গ্যারান্টার ছিলেন জহিরুল ইসলাম।
বঙ্গবন্ধুর সাথে জহুরুল ইসলামের এত ঘনিষ্ঠ ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও তাকে কখনোই রাজনীতিতে আনেননি - বরং বঙ্গবন্ধু জহিরুল ইসলামকে রাজনীতিতে না এসে ব্যবসায় ও ঠিকাদারি কাজে মন দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন!
বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ জেল জীবনের সময় পারিবারিক ভাবে বেগম মুজিবের আর্থিক দুঃসময়ের অন্যতম কান্ডারী ছিলেন- জহিরুল ইসলাম!
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ে ঢাকা- কিশোরগঞ্জসহ সারাদেশে ১৭৪ টি লঙ্গরখানা খুলে শতশত ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন- জহিরুল ইসলাম!
১৯৬১-৬২ সালে- সেই সময়ের আধুনিক রুচিশীল বাড়িতে বঙ্গবন্ধু পারিবারিকভাবে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার দিন বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রথম রাত যাপন কারী ছিলেন জহিরুল ইসলাম!
জমি ক্রয় করা থেকে বাড়িটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়ি তৈরীর অন্যতম নকশা- ডিজাইন- রূপকার ও বঙ্গবন্ধু শুভাকাঙ্ক্ষী ঠিকাদার হিসেবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির সৃষ্টির সাথে জড়িত ছিল এই মহান মানুষটির ঐতিহাসিক স্মৃতি।
এমনকি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের তিন তলা বাড়িটির প্রত্যেক তলায় ব্যবহারকৃত ফার্নিচারও বঙ্গবন্ধু ও বেগম মুজিবের পছন্দমত- জহিরুল ইসলামের সরবরাহ করা!
১৯৯৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত অকালে মৃত্যুবরণ করেন এই মহান মেধাবী গুণী আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী- জহিরুল ইসলাম!
এই গুণী মানুষটি ৯০ দশকে মিডিয়াতে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- বঙ্গবন্ধু তাকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কারণেই তিনি- এদেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও দেশ সেরা প্রতিষ্টিত শিল্পপতি হতে পেরেছিলেন এবং বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান ও মানবতার সেবায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন- সেই কারণে বঙ্গবন্ধুর উপর তিনি আমৃত্যু কৃতজ্ঞ ছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট পর্যন্ত এই বাড়িটির ছোটখাটো সংস্কার- রিপিয়ারিং ও তত্ত্বাবধায়ন জহিরুল ইসলামের দায়িত্বেই ছিল।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এই ঐতিহাসিক বাড়িটি একাধিকবার আক্রমণের শিকার হয়ে জ্বলে পুড়ে ছারখার হওয়ার সাথে সাথে- দানবীর জহিরুল ইসলামের নিজের সুপারভিশন- ও তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু ও বেগম মুজিবের নির্দেশনা মতে- হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তোলা ঐতিহাসিক স্থাপনাটাও স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে গেছে। লিখেছেন : এ কে খন্দকার আজাদ।