ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু...দুদক র‍্যাবের নাম বদলের বিল পাস বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার ২৮ ক্রেডিট কার্ড, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আই এম এফ এর রিপোর্ট,বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ টেকসই উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা....এলজিআরডি মন্ত্রীর সাড়ে ৪ হাজার কোটির প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি সাড়ে ১৬ হাজার কোটি, নেপথ্যে আসিফ মাহমুদ পিডিবিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিক্ষোভ, পদোন্নতি ও চাকরি প্রবিধান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে মাদক ও চাঁদাবাজি বাধা দেওয়া বিএনপি নেতা সেলিম রেজা চৌধুরীর বাসায় গুলি, আসামী গ্রেফতার
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার ২৮ ক্রেডিট কার্ড, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার ২৮ ক্রেডিট কার্ড, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং সুপারভিশন বিভাগের (বিএসডি)-০৯-এর দুই কর্মকর্তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ২৮টি ক্রেডিট কার্ড থাকার তথ্য সামনে এসেছে।

এসব ক্রেডিট কার্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ ও অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগটির পরিচালক রনজিত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে।

সিআইবি তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএসডি-০৯-এর যুগ্ম পরিচালক নাজনু হাসানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ১৫টি এবং একই বিভাগের যুগ্ম পরিচালক সুজন নাথের নামে ১৩টি ক্রেডিট কার্ড রয়েছে।

এসব কার্ডের ঋণসীমা সর্বনিম্ন ২ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক পরিদর্শন বা অডিটের কাজে বিভিন্ন ব্যাংকে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই ব্যাংক থেকেই ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করেন।

কার্ড পাওয়ার পর পুরো সীমা ব্যবহার করা এবং পরবর্তীতে অর্থ সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

কোনো ব্যাংক এ ধরনের অর্থ সমন্বয়ে রাজি না হলে বিএসডি-০৯-এর পরিচালক রনজিত কুমার রায়ের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হতো বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন ব্যাংকে তার নামকে ঘিরে ‘কার্ড বাবা’ নামে একটি অনানুষ্ঠানিক পরিচিতি তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে চাপের অভিযোগ সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএসডি-০৯-এর দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে অডিটে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে বিভাগের পরিচালক রনজিত কুমার রায়ের সুপারিশের কথা উল্লেখ করে সুজন নাথ ও নাজনু হাসানের নামে ৫ লাখ টাকা করে দুটি ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দুই কর্মকর্তার জন্য মোট ১০ লাখ টাকার ক্রেডিট কার্ডের আবেদন গ্রহণ না করলে ব্যাংকটির ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ওই দুই কর্মকর্তার কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চায়।

এ নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিএসডি-০৯-এর পরিচালকের বিরোধ তৈরি হয় এবং ব্যাংকের কার্যক্রমের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাজনু হাসানের ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে প্রশ্ন সিআইবি তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএসডি-০৯-এর যুগ্ম পরিচালক নাজনু হাসান পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা।

তার নামে ২০ লাখ টাকার একটি টার্ম লোন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৮৭ হাজার টাকা বেতনের এই কর্মকর্তার হাউজ লোন ও মোটরসাইকেলের কিস্তি বাবদ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ হয়।

অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে তার নামে থাকা ১৫টি ক্রেডিট কার্ডের দায় এবং ২০ লাখ টাকার ঋণের কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কারও পারিবারিক আর্থিক সক্ষমতা ভালো থাকলে এবং তিনি খেলাপি না হলে একাধিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা সম্ভব।

ঋণ নবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের এনওসি প্রয়োজন হয়।

ব্যাংকটি বিএসডি-০৯-এর আওতাধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেই এনওসি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে কমার্স ব্যাংকে নতুন ঋণ বিতরণ প্রায় বন্ধ থাকলেও পুরোনো ঋণ নবায়ন বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিএসডি-০৯-এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের কেআর স্টিলের ১৮ কোটি টাকার ঋণ নবায়নসংক্রান্ত পরিদর্শনেও বিএসডি-০৯-এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ সুবিধা দাবি এবং তা না পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি রনজিত কুমার রায়ের অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন-০৯-এর পরিচালক রনজিত কুমার রায়ের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ব্যাংক অডিটের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে রনজিত কুমার রায় অবৈধ ঘুষ লেনদেনের একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন।

তার দাবি, ঘুষ না দিলে বিভিন্ন ব্যাংকের কাজ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।

জবাবদিহির দাবি বিশ্লেষকদের বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।

তাদের ভাষ্য, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকলে তা পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন যুগ্ম পরিচালকের নামে ১৩ থেকে ১৫টি ক্রেডিট কার্ড থাকা এবং এসব কার্ডের দায় নিয়মিত পরিশোধের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)