ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু...দুদক র‍্যাবের নাম বদলের বিল পাস বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার ২৮ ক্রেডিট কার্ড, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আই এম এফ এর রিপোর্ট,বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ টেকসই উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা....এলজিআরডি মন্ত্রীর সাড়ে ৪ হাজার কোটির প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি সাড়ে ১৬ হাজার কোটি, নেপথ্যে আসিফ মাহমুদ পিডিবিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিক্ষোভ, পদোন্নতি ও চাকরি প্রবিধান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে মাদক ও চাঁদাবাজি বাধা দেওয়া বিএনপি নেতা সেলিম রেজা চৌধুরীর বাসায় গুলি, আসামী গ্রেফতার
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আই এম এফ এর রিপোর্ট,বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ

এস এম মিজান ও নূরুল আজিজ চৌধুরী

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
আই এম এফ এর রিপোর্ট,বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ

খেলাপি ঋণের হারের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে চলে এসেছে বাংলাদেশ। এরপরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা।

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন।

পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে আগে আড়ালে থাকা অনিয়মিত ও বেনামি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

ফলে ইউক্রেন তালিকার বাইরে চলে গেছে এবং বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ:

খেলাপি ঋণ ৩২.৯২% বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।

পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই খেলাপি ঋণের বড় অংশ হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও বেনামি ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

ফলে আগে আড়ালে থাকা বিপুল ঋণ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি।

এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।বাংলাদেশে ঘটেছে উল্টোটি।

২০২৪ সালের জুনে দেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে।

বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আবার ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ কমাতে কী করছে বাংলাদেশ খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি রাখার নিয়ম আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা করা হচ্ছে; পুনর্গঠন করা হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

ঝুঁকিভিত্তিক তদারকিও চালু করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে আগে নিয়মিত দেখানো অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে।পরিস্থিতি থেকে বের হতে একই সঙ্গে ঋণখেলাপিদের নানাভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

যদিও ঋণ অবলোপন বা পুনঃ তফসিল করলে কাগজে খেলাপি ঋণ কমতে পারে; কিন্তু তাতে পাওনা টাকা আদায় হয় না।

আইএমএফও বলেছে, কঠোর শ্রেণীকরণনীতি ও সম্পদের মান পর্যালোচনায় আরও খেলাপি ঋণ বেরিয়ে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল পেতে হলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সম্পদ জব্দ ও অর্থ আদায়, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ব্যাংকের পরিচালনা ও ঋণ অনুমোদনে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ এবং নতুন করে খারাপ ঋণ সৃষ্টি ঠেকাতে হবে।

এগুলো ধারাবাহিকভাবে করা গেলে মধ্য মেয়াদে খেলাপি ঋণ কমতে পারে। কিন্তু আবারও নির্বিচার পুনঃ তফসিল ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে হার সাময়িকভাবে কমলেও ব্যাংক খাতের মূল সমস্যার সমাধান হবে না।

তথ্যসূত্র- আইএমএফের ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস, প্রথম আলো।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)