তাওলাদ হোসেন
ভাবতে পারেন? ৮০ লাখ টাকার ঘুষের ডিল, ধরা খেয়ে বলে “একা জেলে যাবো না, এসিল্যান্ডকেও সাথে চাই!”
রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেল অফিসে ঘটে গেল এক চমকপ্রদ ঘটনা।
ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র এক সরকারি কর্মচারী, সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম।
আর পর্দার আড়ালের পরিচালক কে, তা নিয়ে এখন থ্রিলারের মতো সাসপেন্স তৈরি হয়েছে!
ঘটনার শুরুটা এমন—এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য তার ২৮২ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির জন্য আবেদন করে টানা ছয় মাস ধরে টেবিলে টেবিলে ঘুরছেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশের অ্যানালগ চক্করে ফাইল আর নড়ে না! কেন নড়ে না? কারণ ফাইলে তখনো “তেল” দেওয়া হয়নি!
অবশেষে ক্লান্ত ভুক্তভোগী যখন সার্ভেয়ার আসাদুলের দ্বারস্থ হলেন, তখন আসাদুল সাহেব একদম কর্পোরেট স্টাইলে ডিল ফাইনাল করলেন।
জমির সীমানা মেপে দেবেন, কিন্তু তার বিনিময়ে পকেটও মাপতে হবে! দাবি করলেন এককালীন ৮০ লাখ টাকা! তাও ভালো, কিস্তির সুবিধা ছিল!
সেনাসদস্য বলে কথা! তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। সোজা চলে গেলেন দুদকের কাছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর প্রথম কিস্তির ১ লাখ টাকা যখন সার্ভেয়ার আসাদুলের হাতে শোভা পাচ্ছিল, ঠিক তখনই সিনেমাটিক স্টাইলে হাজির দুদকের স্পেশাল টিম! হাতেনাতে টাকাসহ আটক হলেন সার্ভেয়ার।
সাধারণত ধরা পড়লে মানুষ কাঁদে, কিন্তু আসাদুল সাহেব তো পুরোই বিপ্লবী! হাতকড়া পরাতেই তিনি চিৎকার করে এমন এক বোমা ফাটালেন, যাতে লালবাগ অফিস কেঁপে উঠল!
তার দাবি, “এসিল্যান্ডের নির্দেশেই আমি টাকা নিয়েছি, তাকে ধরেন! তাকেও গ্রেপ্তার করেন!” মানে, ডুবলে দুজনে একসাথেই ডুববো!
একা একা জেলের ভাত খাওয়ার কোনো শখ আসাদুল ভাইয়ের নেই। বসকে ছাড়া তিনি এক কদমও নড়তে রাজি নন!
আপাতত ১ লাখ টাকার প্রথম কিস্তি হজম করতে না পেরে আসাদুল সাহেব এখন জেলখানায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
আর কথিত পর্দার আড়ালের সেই ব্যক্তি, এসিল্যান্ডকে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।