স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকায় ৪টি ফ্ল্যাট বুকিং দিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা পরিশোধের পরও ফ্ল্যাট বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেস্ট মার্ক প্রোপার্টিজ লিঃ নামের এক ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ক্রেতা তিনটি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, বেস্ট মার্ক প্রোপার্টিজ লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মোস্তাফিজুর রহমান রিফাত এর সঙ্গে ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট ও ২৫ নভেম্বর দুটি পৃথক চুক্তির মাধ্যমে বনশ্রীর ব্লক-এইচ, রোড নং-৪ এর একটি ৭তলা ভবনের ৪টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। চুক্তিমূল্য ধরা হয় ১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ভুক্তভোগী জানান, ২০২১ সালের ৯ আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে তিনি চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধ করে দেন।
চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট হস্তান্তরের তারিখ ছিল ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, নির্ধারিত সময়ে হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে, ডেভেলপার প্রতিমাসে প্রতিটি ফ্লাটের বিপরীতে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৬০ (ষাট) হাজার টাকা করে ভাড়া বাবদ ক্রেতাকে প্রদান করবেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা পরিশোধের পর ডেভেলপার দ্রুত ফ্ল্যাট নির্মাণ ও রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন বাবদ অতিরিক্ত ৩৩ লাখ টাকাও তিনি প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলেও গত প্রায় ৫ (পাঁচ) বছর ধরে ভবনটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তাকে মেয়ের নামে থাকা মৌচাকের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হয়েছে, চাকরি জীবনের সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে এবং ইউসিবিএল ও সিটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট না পেয়ে এবং মাসিক ৬০ হাজার টাকার ভাড়া না পেয়ে তিনি যোগাযোগের চেষ্টা করলে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অফিস পরিবর্তন করেন এবং ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে বলা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি যোগাযোগ করতে পারলে তাকে হস্তান্তর না করা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক লোকদের সাথে তার কানেকশন আছে বলে জানান।
এসব ঘটনায় তিনি আইনি আশ্রয় নেন। তিনি খিলগাঁও থানায় ২১/১১/২০২৩ তারিখে জিডি নং-১৪৭৭, বনানী থানায় ২১/০১/২০২৪ তারিখে জিডি নং-১৩৭৫ এবং রামপুরা থানায় ০৩/০২/২০২৪ তারিখে জিডি নং-১৬৫ দায়ের করেন। জিডির কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
ভুক্তভোগী বলেন, "আমি আমার সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ফ্ল্যাটগুলো কিনেছি। এখন ব্যাংকের কিস্তি এবং মেয়ের বাসা ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছি। পরিবার নিয়ে চরম অর্থকষ্টে আছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু প্রতিকার চাই।"
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বেস্ট মার্ক প্রোপার্টিজ লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির বনানীস্থ অফিসে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সহযোগিতা কামনা করেছেন।