Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ইসির, ৯০ দিনের মধ্যেই ভোট ভ্রমণ নীতিতে বড় পরিবর্তন ৪ দেশে ভারতীয়দের ভিসা সুবিধা বাতিল রাজনীতি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা পুনরুত্থান রোধে সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে হবে...আখতার হোসেন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমান সরকারকে সমর্থন করেন...সাহাবুদ্দিন অবস্থান বদলের গুঞ্জন,ছাত্রদের বাদ দিয়ে মোদির পক্ষ নিলেন সালমান খান...? ‘ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া শেষ ছায়াও জাতির ঘাড় থেকে নেমে গেছে...ডা: শফিকুল রহমান’ তিন সরকারের শপথ পড়ানো বিদায়ী রাষ্ট্রপতির যত বিতর্কিত ঘটনা অবশেষে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি, অস্থায়ী দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন,দায়িত্ব পালন করবেন....স্পীকার অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে-দাবি এনপিসিবিএল এর
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অপসংস্কৃতিরোধে কঠোর নজরদারি চাই

মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুলাই,২০২৬, ১১:০১ এ এম
দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অপসংস্কৃতিরোধে কঠোর নজরদারি চাই

​ইসলামী শিক্ষা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানসমূহ আবহমানকাল ধরে আমাদের সমাজে নৈতিকতা, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধের আধার হিসেবে কাজ করে আসছে।

বিশেষ করে নূরানী ও হিফজুল কুরআন মাদরাসাগুলো কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ে ইসলামের আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব পালন করে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে একশ্রেণীর অর্ধশিক্ষিত, তথাকথিত ‘টিকটকার’ হাফেজ এবং নামধারী নূরানী শিক্ষকের অপেশাদার ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের কারণে এই মহান দ্বীনি শিক্ষার ভাবমূর্তি মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। ​

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সস্তা জনপ্রিয়তা বা ভিউ পাওয়ার আশায় দ্বীনি লেবাস ও পবিত্র স্থানকে ব্যবহার করে কিছু তরুণ যে ধরনের অসভ্যতা ও সস্তা বিনোদনে লিপ্ত হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

পবিত্র কুরআনের হাফেজ কিংবা শিশুদের নৈতিকতা শেখানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নূরানী শিক্ষকদের কাছ থেকে সমাজ সর্বোচ্চ তাকওয়া ও শালীনতা আশা করে।

অথচ এদের অবক্ষয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মনে দ্বীন ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি তীব্র নেতিবাচক এবং ভুল ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে।

গুটিকয়েক উশৃঙ্খল ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো আলেম সমাজ বা মাদরাসা শিক্ষার ওপর গিয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ​

এই নীরব সামাজিক ব্যাধি ও অপসংস্কৃতিকে এখনই কঠোরভাবে প্রতিহত করা না গেলে, আমাদের দ্বীনি ও সামাজিক ঐতিহ্য অচিরেই ধ্বংসের মুখে পড়বে।

আর তাই এই বিশৃঙ্খলা রুখতে বহুমুখী এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি: ​পরিচালনা কমিটির কঠোর নজরদারি: মাদরাসা পরিচালনা কমিটিকে কেবল তহবিল সংগ্রহ বা বাহ্যিক তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের আচরণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের কার্যক্রম এবং তাঁদের পূর্বের ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে। ​

স্থানীয় উলামাদের অভিভাবকত্ব: স্থানীয় উলামায়ে কেরামকে এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যারা দ্বীনের নাম ব্যবহার করে বখাটেপনা করছে, তাদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কট এবং সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। ​

আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিচার: কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর আচরণ যদি দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তবে তাকে অবিলম্বে বরখাস্ত করাসহ প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিচারের আওতায় আনতে হবে।

অপরাধীকে ‘ধর্মীয় সহানুভূতি’র চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ​সবচেয়ে বড় দায়িত্ব রয়েছে জেলাভিত্তিক মাদরাসা বোর্ডগুলোর কাঁধে।

জেলা বোর্ডগুলো যদি এখনই এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন না হয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নীতিমালা ও মনিটরিং সেল গঠন না করে, তবে অতি শীঘ্রই পুরো দ্বীনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে এর জন্য চড়া মাশুল দিতে হবে।

সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেললে দ্বীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসার থমকে দাঁড়াবে। ​আমরা বিশ্বাস করি, ইসলাম কোনো উশৃঙ্খলতা বা সস্তা প্রচারসর্বস্ব জীবন সমর্থন করে না।

দ্বীনি শিক্ষার পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্তির হাত থেকে বাঁচাতে আলেম সমাজ, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং জেলা বোর্ডগুলোকে একযোগে মাঠে নামতে হবে।

বখাটে ও অসভ্য চক্রের হাত থেকে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব। ​

ইসলামী ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একশ্রেণীর অর্ধশিক্ষিত হাফেজ ও শিক্ষকের টিকটকভিত্তিক অপেশাদার কর্মকাণ্ড দ্বীনি শিক্ষার ভাবমূর্তিকে চরম সংকটের মুখে ফেলছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে দ্বীনি লেবাস ও পবিত্র স্থানকে ব্যবহার করে যে অসভ্যতা ছড়ানো হচ্ছে, তা পুরো আলেম সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই অপসংস্কৃতি রুখতে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ নজরদারি, স্থানীয় উলামাদের অভিভাবকত্ব এবং জেলাভিত্তিক মাদরাসা বোর্ডগুলোর মাধ্যমে কঠোর মনিটরিং সেল গঠন জরুরি।

ইসলামের পবিত্রতা ও দ্বীনি শিক্ষার ভাবমূর্তি রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। ​

লেখক: প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ, দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, পটুয়াখালী।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)