নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার পর তাকে হাতজোড় করে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা একবারই এসেছি এখানে।’
তবে পরে তিনি ওই তরুণীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি করেন। তরুণীর বাবা ও গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন গাজী নজরুল ইসলাম ও তার সঙ্গে থাকা এক তরুণীকে পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন।
প্রথমদিকে তরুণী কোনো উত্তর না দিলেও থানায় নেওয়ার কথা বলা হলে তিনি নিজের নাম ‘মাহিয়া’ বলে জানান।
এরপর স্থানীয়রা গাজী নজরুল ইসলামকে প্রশ্ন করেন, তিনি ওই তরুণীকে কত দিন ধরে সেখানে নিয়ে আসছেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকেই... আজকেই প্রথম।’
কক্ষটি কার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না, চালকের পরিচিত একজনের মাধ্যমে সেটি নেওয়া হয়েছে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একপর্যায়ে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করে হাতজোড় করে বলেন, ‘আজকে আমাদের ছেড়ে দেন।’
একই সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা একবারই এসেছি এখানে।’ এর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আরেকটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওই তরুণীর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপিকে নিয়ে যেসব ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন তিনি।
তার ভাষ্য, এটি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ জুন ২০২৬ তার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছে।
ওই বিয়েতে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, ভাইরাল ভিডিওতে ‘মাহিয়া’ নামে পরিচয় দেওয়া তরুণীর প্রকৃত নাম মরিয়ম আক্তার।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমও পৃথক এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে মরিয়মের বৈধভাবে বিয়ে হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রচার বন্ধ না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।