নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা কামনায় মিত্র ও শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই হাইভোল্টেজ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ৪১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকের সার্বিক বিষয়বস্তু তুলে ধরে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি জানান, রাষ্ট্র পরিচালনার নানাবিধ জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে পূর্বে সময় বের করা সম্ভব না হলেও সোমবার ৪১টি রাজনৈতিক দলের মোট ১৮৪ জন প্রতিনিধির সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড় ও ফলপ্রসূ আলোচনা পরিচালনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপি মহাসচিব পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও নির্বাচিত ধারা রক্ষা করে চলা সরকার ঘোষিত '৩১ দফা' এবং ঐতিহাসিক 'জুলাই সনদ' পুরোপুরি বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
পূর্ববর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, গত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে গেছে।
সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত কাঠামো থেকে বাংলাদেশকে পুনরায় স্বনির্ভর ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার রূপরেখা নিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের তড়িঘড়ি বা একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
বরং শরিক ও মিত্র দলগুলোর যৌক্তিক মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের সময়সূচি ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।
স্মরণকালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক সমন্বয় সভা।
বৈঠকে আমন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতারা সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচির প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থার কথা ব্যক্ত করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্ত শক্তপোক্ত করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।