এস এম মিজান
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ।
সেই ব্যর্থতাকে সরিয়ে দিয়ে ডারউইনে তারা ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পায়।
শনিবার(২২ আগষ্ট) সাফল্যে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্টে হতাশ করল।
নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে তারা। সফরকারীদের গুটিয়ে দিতে ৩৪ ওভার লেগেছে অস্ট্রেলিয়ার। ডারউইনে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য জয়ের পর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে ম্যাকাই টেস্টে নেমেছিল।
কিন্তু স্টার্ক তার প্রথম ২২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন তছনছ করে দেন। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে সফরকারীরা।
৬.৪ ওভারে ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। স্টার্ক এই সময়ে ৪ ওভার চার ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র চার রান দিয়ে ফাইফার পান।
এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ফাইফারের দেখা পান তিনি। প্রথম বলে সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের শিকার বানান অজি পেসার।
পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান স্টার্ক। প্রথম তিন ব্যাটারই মারেন ডাক।
মুমিনুল হককেও ফেরান তিনি মাত্র ৯ রানে। ৫ বল খেলে লিটন দাস ডাক মারেন।
টেস্টে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা আপাতত কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
তবে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়া এড়াতে এখনও কিছুটা পথ বাকি।
যদিও মুশফিকুর রহিম ৪২ বলে ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন।
২১ রানে ৬ উইকেট পড়েছে বাংলাদেশের। তারপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম সেশন শেষ করে তারা।
মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। টেস্টে সর্বনিম্ন রানে অলআউট (২৬) হওয়ার লজ্জা এড়াতে পারলেও হতাশা নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ।
২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ছিল ৩৫ রান।দ্বিতীয় সেশনে কামিন্স প্রথমবার বল হাতে নিয়ে এই জুটি ভেঙে দেন।
তৃতীয় স্লিপে ইনিংস ১১ রানে বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচ হন মিরাজ। হাসানের সঙ্গে তার ১৫ রানের জুটি ভেঙে যায়। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের শিকার হাসান।
১০ রানে নাথান লায়নের ক্যাচ হন তিনি। তাসকিন আহমেদকে কামিন্স নিজের তৃতীয় শিকার বানান। ম্যাথু রেনশর ক্যাচ হয়ে ১ রানে থামেনি বাংলাদেশি ব্যাটার।
৩৯ রানে নবম উইকেট হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন রানে (৪৩) অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল।
কিন্তু তাইজুল ইসলাম ৩০তম ওভারের শেষ বলে হ্যাজেলউডকে চার মেরে সেই লজ্জা এড়ান। এদিকে শরিফুল ১১ নম্বরে নেমে ইনিংস সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন।
তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি গড়েন। তাকে ফিরিয়ে স্টার্ক বাংলাদেশকে অলআউট করেন। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। বাংলাদেশ একাদশ সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।