নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাটিং ব্যর্থতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার শেষ হওয়া ম্যাচে ১৭০ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩৫.১ ওভারেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।
এই হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার বাংলাদেশের স্বপ্ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রানে অলআউট হয়।
জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৪৫ রানে। ফলে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।
এতে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুই ক্যারিবীয় ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল।
মাত্র ১১ ওভারে দলের সংগ্রহ ৫০ এবং ১৯ ওভারে শতরানে নিয়ে যান তারা।
শেষ পর্যন্ত ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ব্র্যান্ডন কিং। ১০টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস।
অন্যদিকে কাভেম হজ ২৭ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৩১ রান। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ৪৯ রান করা ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন।
পরে তেজনারাইন চন্দরপলকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। তবে এরপর আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি স্বাগতিকরা।
ম্যাচে ফিল্ডিং ব্যর্থতাও ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। একাধিকবার জীবন পান ব্র্যান্ডন কিং।
এ ছাড়া আম্পায়ার্স কলের কারণে চারবার আউটের সিদ্ধান্ত থেকে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটাররা।
বাংলাদেশের নেওয়া রিভিউগুলোতেও সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আসেনি।
এর আগে শনিবার ৩১ অক্টোবর সকালে আগের দিনের ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ।
দিনের প্রথম ওভারেই ফিরে যান জাকের আলি। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেন নাঈম।
ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে সুইপ শট খেলে রান তুলতে থাকেন তিনি। শেষ তিন ব্যাটারকে নিয়ে আরও ৫৮ রান যোগ করেন নাঈম।
তার ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান। হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম ৮ রান করে এবং শরিফুল ইসলাম করেন ৭ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে ওঠে প্রথম পাঁচ ব্যাটারের পারফরম্যান্সে।
তারা সম্মিলিতভাবে করেন মাত্র ২৭ রান। বিপরীতে একাই ৩৩ রান করেন নাঈম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন রস্টন চেইস। ৩৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ধসিয়ে দেন তিনি।
এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম পাঁচ উইকেট শিকার। এ ছাড়া জোমেল ওয়ারিক্যান নেন ৬৩ রানে ৪ উইকেট।
এই পরাজয়ে ঘরের মাঠে টানা পাঁচ টেস্ট জয়ের ধারাও থেমে গেল বাংলাদেশের।
এর আগে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্টে জয় পেয়েছিল টাইগাররা।
অন্যদিকে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়েও বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ।
ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে বাকি পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতে জয় এবং অন্য ম্যাচে ড্র করতে হবে দলকে।
ফলে সামনের ম্যাচগুলোতে প্রতিটি পয়েন্টই বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।