নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা মো. শাহীনুর রহমানকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একই পদ ও কর্মস্থলে বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বছরের পর বছর একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তাকে অন্যত্র বদলির উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বদলি আদেশ কার্যকর হতে দেননি তিনি।
ফলে নিয়মিত বদলির আওতায় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থল পরিবর্তন করলেও শাহীনুর রহমান দীর্ঘদিন একই চেয়ারে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, “বদলি করতে পারে না কেউ”—এমন একটি প্রভাবশালী অবস্থান তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তৈরি করেছেন।
তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং নিজের অবস্থান ধরে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বদলি ঠেকানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সনদ, বকেয়া ভাতা ও ট্রাস্টের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গেও তার দায়িত্বকালীন ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই চেয়ারে থাকার পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং তার বদলি কেন বারবার আটকে গেছে—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র ও বদলি সংক্রান্ত আদেশগুলো তদন্ত করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি এড়িয়ে গেলে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগজনক।
তাই শাহীনুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বদলি সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরির বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে শাহীনুর রহমানকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে উল্লেখসহ এসব অভিযোগ অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হলো অভিযোগ গুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।