Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● নারায়ণগঞ্জ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়েছে ঢাকা বাইপাস সড়ক ● কলকাতার বাংলাদেশ মিশনের সামনে ফের বিক্ষোভ,ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা ● ওনাবের সভাপতি মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রনো ● পাবনা সেনাবাহিনীর পাহারায় রূপপুরে পৌঁছাল পারমাণবিক জ্বালানি ● পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে ভারতের স্বর্ণজয় ● উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় সফল হওয়া চ্যালেঞ্জের...গভর্নর ● মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন-সৎকারে সাড়ে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ● বিশ্ব প্রাণী দিবস আগামীকাল ● পুলিশের গুলি খাবো,তবু হেলমেট পরবো না’....মেজর আখতারুজ্জামান ● ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী-স্ত্রীর ছবি প্রকাশ
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
ফেনীতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি উদ্বোধন

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে...প্রধানমন্ত্রী

এস এম মিজান, ফেনী থেকে ফিরে

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর,২০২৬, ১১:০৭ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর,২০২৬, ১১:২৪ পিএম
স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে...প্রধানমন্ত্রী

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, ‘তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’

আপত্তি থাকবে কেমন করে, বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ৯১-তেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল, গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল। তলে তলে কাজ করেছিল।

এজন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল?

আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন? তারা রাজপথে কেউ ছিল না।

তারেক রহমান বলেন, আমরা কিছুদিন যাবত খেয়াল করে দেখছি, এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। করছে না?

খেয়াল করেছেন আপনারা? কি বলে-এক দফা এক দফা। আপনারাই কিন্তু বললেন, আমরা যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছি, বর্তমান সরকার যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, এ কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করলে কার উপকার হবে? মানুষের উপকার হবে।

সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের উপকার হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, যারা এক দফা এক দফা বলছে অথবা যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল-এদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে?

এদের কি খালকাটা কর্মসূচি আছে? এদের কি বৃক্ষরোপণ কসকর্মসূচি আছে? এদের কি কৃষক কার্ড আছে?

এদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা আছে?

এদের কি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০-এর বদলে ১৫০ বেডে করার কর্মসূচি আছে? তাহলে তারা কিসের রাজনীতি করে?

মানুষের কর্মসূচি কই? সরকারপ্রধান আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন চায় ভাগ্যের পরিবর্তন।

কেউ কি খারাপ অবস্থায় সবসময় থাকতে চায়? মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়।

আমরা মনে করি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যদি মা-বোনদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, ইমাম সাহেব মুয়াজ্জিন সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের মিনিমাম একটি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষক ভাইদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো আস্তে আস্তে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বচ্ছল হয়ে উঠবে তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে চায়, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানী বাস্তবায়ন করতে চায়, বিএনপি কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, খাল খনন করতে চায়, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করতে চায়।

অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এই কর্মসূচিগুলো দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে যারা আজ দেশে অরাজকতা তৈরি চেষ্টা করছে, দেশের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আমাদের কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত?

মুয়াজ্জিন সাহেবরা বলেন না, তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের থেকে ধর্মের জ্ঞান আপনাদের বেশি আছে।

একটু ভাই বলেন তো, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। বলছিল না মানুষকে, আপনারাও তো শুনেছেন। দেখছেন না, দেখেছেন।

বেহেশত-দোজগের মালিক কে? একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। যেটার মালিক আল্লাহ সেটার কথা কি কোনো মানুষ বলতে পারে?

যেটা দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার, সেটি যদি মানুষ বলে আমি দেব, সেটি কি শিরিকের পর্যায়ে পড়ে?

যারা শিরিকি করে, আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি করে, তাহলে মানুষের সঙ্গে তারা কত বড় মুনাফিকি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, স্বৈরাচারী রাজনীতি করে, যাদের কাছে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এরা যদি দেশ চালানোর দায়িত্ব পায়, আর যাই করুক জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি গ্রহণ করবে না।

যদি তাদের নেওয়া জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি থাকতো, তাহলে তারা বলতে পারতো কি কর্মসূচি তারা গ্রহণ করতে পারে।

আজ পর্যন্ত জনগণের উপকার হয় এরকম কোন কর্মসূচির কথা তারা তুলে ধরতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছি আমরা জনগণের জন্য কাজ করি।

আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি বিএনপির যা বলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। আমরা আমাদের কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করেছি বিএনপি সব সময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে।

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)