আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত একটি বিলবোর্ডকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ওই বিলবোর্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো একাধিক কফিন দেখানো হয়েছে।
পাশাপাশি সেখানে লেখা হয়েছে, ‘রক্তের বদলে রক্ত’, যা ট্রাম্প পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকির বার্তা হিসেবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বুধবার, ২২ জুলাই প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্যালেস্টাইন স্কয়ারে স্থাপন করা বিলবোর্ডটির পটভূমিতে হোয়াইট হাউসের আদলে একটি ভবনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই বার্তা প্রদর্শন করা হয়েছে।
এর আগে তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ারেও আরেকটি বিলবোর্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোলা কালো কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল।
সেখানে ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’। নতুন বিলবোর্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং সন্তান ইভানকা ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক ট্রাম্প, টিফানি ট্রাম্প ও ব্যারন ট্রাম্পের ছবিও স্থান পেয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
ওই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং এক নাতনিও নিহত হন। দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের প্যালেস্টাইন স্কয়ার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
সেখানে নিয়মিত সরকারসমর্থকদের সমাবেশ এবং ফিলিস্তিন ও হিজবুল্লাহর পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাও দেখা যায়।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ভালিআসর স্কয়ারের বড় দেয়ালচিত্র ও বিলবোর্ডগুলোর নকশা এবং বাস্তবায়নে ‘আওজ আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া অর্গানাইজেশন’-এর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিকে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।
এসব প্রচারণামূলক চিত্রে প্রায়ই ইরানের পররাষ্ট্রনীতি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের হুমকিমূলক প্রচারণা আরও বেড়েছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হত্যাচেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
অন্যদিকে ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বারবার খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছে।
এ বিষয়ে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিও এক বক্তব্যে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ‘শান্তিতে জীবন শেষ করতে পারবে না’।