ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরেও।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে।
এই বিভক্তিকে সামনে এনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার, ২২ জুলাই রাহুল গান্ধীকে বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করার পরপরই আম আদমি পার্টি (এএপি) কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে ‘তাল মিলিয়ে চলার’ অভিযোগ তোলে।
এএপির নেতাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের সামনে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে প্রশাসন দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালেও যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুক ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের ক্ষেত্রে একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।
তবে এএপির এই অবস্থানকে ঘিরেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এএপির কড়া সমালোচনা করেছেন।
তাদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মূল ইস্যুকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে দলটি।
এএপির সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, সিজেপির আন্দোলনের গুরুত্ব কমিয়ে দিতেই মোদি রাহুল গান্ধীকে ওই বিক্ষোভে বসিয়েছেন।
এর জবাবে কীর্তি আজাদ লেখেন, ‘তোমার কাছ থেকে এটা আশা করিনি। তুমি আমাদের বন্ধুত্বকে লজ্জায় ফেলেছ।’
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলন এখন বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধেরও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি উভয়ই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
দলটির দাবি, বিরোধীদের পারস্পরিক এই দ্বন্দ্বই আন্দোলনের মূল ইস্যুকে আড়াল করছে।