নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালসহ (সিসিটি) গুরুত্বপূর্ণ কোনো অবকাঠামো কোনো বিদেশি কিংবা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে না দেওয়ার দাবিতে রাজপথে নেমেছে ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’।
এ ইজারা প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরীতে এক বিশাল মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র চেরাগীর মোড় থেকে প্রতিবাদী এই মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে নিউমার্কেট এলাকা অতিক্রম করে লালদিঘির পাড়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
কর্মসূচিলগ্নে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা বন্দর রক্ষায় নানা ধরনের প্রতিবাদী স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন।
নিজেদের দাবি না মানা হলে আগামী ২ আগস্ট বেলা ১১টায় আগ্রাবাদ বাদামতলীর মোড় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে মহাসমাবেশ ও পদযাত্রার কড়া হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তারা স্পষ্ট জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কেবল বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির হৃদপিণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি অতি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় সম্পদ।
এই লাভজনক বন্দর বা এর টার্মিনালগুলো বিদেশি লাভলোভী বা বেসরকারি গোষ্ঠীর নিকট হস্তান্তর করা হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বকীয়তা, স্থানীয় শ্রমিকদের জীবিকা এবং সার্বভৌমত্ব চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আধুনিকায়নের খোঁড়া অজুহাতে জাতীয় সম্পত্তি তুলে দেওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না বরং রাষ্ট্রীয় অর্থায়নেই বন্দরের সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন: "দেশব্যাপী ধারাবাহিক প্রতিবাদ, সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান থাকলেও সরকার জনগণের এ উদ্বেগকে আমলে নিচ্ছে না।
অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ইজারা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও করেছিল।
কিন্তু জনগণের প্রবল বিরোধিতার মুখে তা সফল হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকারও পূর্ববর্তী সরকারগুলোর পথ অনুসরণ করছে।"
মশাল মিছিল শুরুর পূর্বে চেরাগীর মোড়ে আয়োজিত প্রতিবাদী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।
সংগঠনের সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর বলিষ্ঠ সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন— জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম এবং টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান সহ অন্যান্য শ্রমিক ও নাগরিক প্রতিনিধি।