নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪ দশকেরও বেশি সময় পর এক চাঞ্চল্যকর ও ঐতিহাসিক সাফল্য লাভ করেছে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ওই হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সুকৌশলে আইনকে ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এক বিশেষ ঝটিকা অভিযানে তাকে বাগে আনতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
আটকের পর তার জাতীয় পরিচয়পত্র, শারীরিক অবয়ব ও মামলার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিয়ম অনুযায়ী তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এখন আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় কার্যকরের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১৯৮১ সালের সেই কালরাত ও বিচার প্রক্রিয়া:
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে একদল পথভ্রষ্ট ও বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার আকস্মিক হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সুদীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
পরবর্তীতে দেশের উচ্চ আদালতও বিচারিক আদালতের দেওয়া সেই ফাঁসির রায় বহাল রাখেন।
রায়ের পর নির্ধারিত সময়ে কয়েকজনের দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হলেও, মেজর মোজাফফরসহ বাকি কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
যেভাবে কাটল দীর্ঘ আত্মগোপন:
ডিবি পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন অত্যন্ত চতুরতার সাথে দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছিলেন।
বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান শনাক্ত করার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিনি বারবার নিজের আস্তানা বদলে গ্রেপ্তার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন।
তবে সম্প্রতি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ও মাঠপর্যায়ের নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার বর্তমান অবস্থানের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরেই এই সফল অভিযানটি পরিচালনা করে পুলিশ।