আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ ১১ বছর পর তুলে নেয়া হয়েছে।
দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে উত্তর আফ্রিকার দেশটির ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
২০১৫ সালে লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) দেশটির আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
গত ২৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
দোহায় পশ্চিম এশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিএওর মহাসচিব হুয়ান কার্লোস সালাজার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
লিবিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং এই খাতের সক্ষমতার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন হলো বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
ফ্লাইটের অনুমতি চেয়ে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন:
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান চালানোর অনুমতি চেয়ে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক আবেদন এসেছে।
২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ সালের শীতকালীন মৌসুমে প্রতি মাসে ৬১ হাজার ৯৬৮টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
অথচ এর আগের ২০২৫-২৬ সালের শীতকালীন মৌসুমে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র দুই হাজার ফ্লাইট লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করত।
ফ্লাইট চলাচল বাড়লে আকাশসীমা ব্যবহারের ফি থেকে লিবিয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হবে বলে জানিয়েছে পরিবহন মন্ত্রণালয়।
গৃহযুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান চলাচল:
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় অস্থিতিশীলতা শুরু হয়।
এরপর ২০১৪ সালে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে দেশটি পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলকেন্দ্রিক দুটি প্রশাসনে বিভক্ত হয়ে যায়।
সংঘাতের কারণে ২০১৪ সালে ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারবাসসহ প্রায় ২০টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
দীর্ঘদিনের অস্থিরতার প্রভাব এখনো দেশটির বিমান চলাচল খাতে রয়েছে। বর্তমানে সীমিতসংখ্যক বিমান সংস্থা লিবিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
এখন দেশটি থেকে মূলত তিউনিসিয়া, জর্ডান, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও সুদানে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।
লিবিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তা আইসিএওর ১৯৩টি সদস্যদেশের কাছে পাঠানো হবে।