নিজস্ব প্রতিবেদক
সাভারের চরাঞ্চলে নদীর পানি প্রতিবছর ভাসিয়ে নিয়ে যায় কৃষকের সারা মৌসুমের পরিশ্রম।
কিন্তু এবার সেই ঝুঁকিপূর্ণ চরেই ১২টি প্রদর্শনী প্লটের মধ্যে ১০টির ধান সফলভাবে ঘরে তুলেছেন প্রান্তিক চাষীরা — বন্যা-সহনশীল ও জিংক সমৃদ্ধ 'ব্রি ধান-১০২' চাষ করে, যা কিছুদিন আগেও অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হতো।
এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের তরুণ-নেতৃত্বাধীন “Climate Action at Local Level” (CALL) প্রকল্প, যা বাস্তবায়িত হচ্ছে GAIN-এর কারিগরি সহযোগিতা ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে।
ধানের প্লটের পাশাপাশি আশুলিয়ার নয়াপাড়া, সাধুপাড়া ও শেওলাটেকি গ্রামের ১০টি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার বসতবাড়ির অব্যবহৃত জমিতে গড়ে তুলেছে পুষ্টি বাগান — প্রায় ১৫ ধরনের মৌসুমি সবজি, রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই, পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদে সুরক্ষিত। বাগানের সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন প্রতিবেশীরাও।
এই মাঠ আর বাগানের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন ১৬০ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবক — যাদের অর্ধেক নারী — যারা সাভার ও গাজীপুর সদরে ১৬টি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জলবায়ু-সচেতন কৃষি ও পুষ্টির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ঘরে ঘরে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ৬০ জন যুব প্রতিনিধি ToT কর্মশালায় নিজেদের এলাকার জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন।
মার্চে কৃষিবিদ ড. মো. মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে GAIN-এর কারিগরি দল মাঠে গিয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে পরামর্শ দেন।
প্রকল্পের নীরব বিপ্লব পৌঁছে গেছে ইউনিয়ন পরিষদেও — সাভার, আশুলিয়া ও ইয়ারপুরে নবগঠিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইউনিয়ন বাজেটে স্থান পেয়েছে পুষ্টি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি।
অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, “তরুণদের শুধু সুবিধাভোগী নয়, নেতা হিসেবে দেখলে কী হতে পারে — এই মাঠগুলোই তার প্রমাণ।
বন্যা থেকে ফসল বাঁচানো একজন কৃষক, ঘরের পাশে পনেরো রকম সবজি ফলানো একজন মা — এই গল্পগুলোই বলে দেয় আমাদের মডেল কাজ করছে।”