আ জা ডেক্স
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অভিযোগে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই সকাল ১১টার দিকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন নোয়াখালীর, তিনজন সিলেটের বাসিন্দা। এছাড়া বাকিরা কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা এবং অন্যান্য জেলার বাসিন্দা।
বিমানবন্দরে তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেয় প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছানোর জন্য তাদের পরিবহন সহায়তাও দেওয়া হয়।
ব্র্যাক জানায়, ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ জন ব্রাজিল থেকে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
এ যাত্রায় তাদের ১৩ থেকে ১৫টি দেশ বাস ও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছে। এছাড়া একজন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ব্রাজিল হয়ে একই রুট ব্যবহার করেন এবং আরেকজন নিউইয়র্ক রুট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল রুট ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন।
অন্যরা পর্যটন ভিসায় ব্রাজিলে পৌঁছে দালালচক্রের সহায়তায় অনিয়মিত পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বৈধ অভিবাসনের শর্ত পূরণ করতে না পারায় দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েন।
পরে মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, ‘দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় বিপুল অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
তাই অনিয়মিত পথে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৩৬৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।